কেমন হবে বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান

হেলাল উদ্দীন রানা :: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গত এক মাসের বেশি সময় আগে, ৩ নভেম্বর। আর পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশে সময় লেগেছে আরো প্রায় ৪ দিন। বাকি সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ঠিকমতো চলতে থাকলে তা সাধারণত খবরে আসার কথা নয়, শুধু নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান ছাড়া। তবে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কল্যাণে এখন সব কিছু অসাধারণ হয়ে উঠেছে। সবার আগ্রহ কী ঘটে চলেছে ওয়াশিংটনে। বিশ্বের তাবৎ মানুষ এখন জানতে চায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই কি নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতা নেবেন? নিলে কীভাবে নেবেন। তাঁর শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান কেমন হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানকে বলা হয় ইনোগুরাল সিরোমনি। এটা প্রতি চার বছর পর পর ২০ জানুয়ারি নির্দিষ্ট করা আছে। প্রেসিডেন্টদের এই শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান ক্যাপিটাল হিল ভবনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ক্যাপিটাল হিল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা ভবন। দুপুরের দিকে এই ইনোগুরেশন শুরু হয়ে কয়েক ঘন্টা স্থায়ী হয়। এবার ক্যপিটাল হিলের ওয়েস্ট ফ্রন্টের সবুজ ঘাসে ছাওয়া লনে এই ইনোগুরেশন বা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। নির্বাচনের পর থেকেই মঞ্চ নির্মাণ, ডেকোরেশন ইত্যাদির কাজ চলছে। মূলত নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠান হলেও বিখ্যাত শিল্পী ও সেলিব্রেটিরা এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে থাকেন। অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকেন কংগ্রেস ও সিনেটের সদস্য ছাড়াও বিশেষভাবে নির্ধারিত কিছু গেস্ট।
যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রেসিডেন্টকে ধর্মগ্রন্থ বাইবেল ছুঁয়ে শপথ নিতে হয়। তারপর পুরনো প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেন। নতুন প্রেসিডেন্ট বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউসের হেলিপ্যাডে দাঁড়ানো মেরিন ওয়ানে সস্ত্রীক এগিয়ে দেয়ার রেওয়াজ। প্রেসিডেন্টের হেলিকাপ্টারকে বলা হয় মেরিন ওয়ান। এরপর প্রেসিডেন্টকে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাকে হোয়াইট হাউসের স্টাফ ও হোয়াইট হাউসে কর্মরত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, বিশেষ অতিথিবৃন্দের সাথে মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হন। অনুরূপ ফার্স্টলেডিকে কিছু আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করতে হয়। হোয়াইট হাউসে ফার্স্টলেডিরও আলাদা কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন।
এই ইনোগুরেশান সিরোমনিতে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটে। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইনোগুরেশনে প্রায় ৫ লাখ লোক হয়েছিলেন। তবে রেকর্ড ১৮ লাখ লোকের সমাগম ঘটেছিল প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০০৯ সালের ইনোগুরেশন অনুষ্ঠানে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন অতিমারির কারণে যত ছোট আকারে সম্ভব অনুষ্ঠান আয়োজন করার পক্ষে। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বাইডেন জাঁকজমকের পরিবর্তে মানুষের নিরাপত্তার বিষয়কে অধিক গুরত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাই তাঁর ইনোগুরেশন অনুষ্ঠানে হবে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে। বাইডেন সকলকে ঘরে বসে বা ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে তাঁর দ্য জয়েন্ট কংগ্রেশনাল কমিটি অন ইনোগুরাল সিরোমনিজ (জেসিসিআইসি) জানিয়েছে অতিমারির জন্য এবার উপস্থিতি অনেকটা কাঁট-ছাঁট করা হবে।