শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়ক দুই বছরেও শেষ হয়নি সংস্কার কাজ

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ :: ‘চার বছর ধরে রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। একবার আসা-যাওয়া করলেই অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। দুই বছরেও রাস্তার সংকার কাজ শেষ হয়নি। রাস্তা দিয়ে যে-ই আসা-যাওয়া করে, কষ্টে তার অজান্তেই যেন গালি মুখ দিয়ে। এভাবে আর কত কষ্ট করতে হবে জানিনা।’- কথাগুলো বললেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কর্মজীবী গৃহিনী মনোয়ারা বেগম। আর শুধু মনোয়ারাই নয়; শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়ক দিয়ে তার মতো যাতায়াতকারী স্কুল শিক্ষক মানিক চন্দ্র পাল ও সিএনজি অটোরিকশা চালক রতন দেবসহ অনেকেই এ ধরনের মন্তব্য করেন সড়কটির বেহাল অবস্থা নিয়ে।

ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তারিকারক চাতলা-শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়কটি ৪ বছর আগেই ভেঙে পড়ে। এ সড়ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। বিদায়ী বছরে গোটা মৌলভীবাজারজুড়ে সড়কে জনদুর্ভোগ নিয়ে আলোচনা ছিল লোকমুখে। জনসাধারণের চরম ভোগান্তি পাওয়া শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়কে ৩৪ কি.মি. এর মধ্যে ২০ কি.মি. সড়কে দু’বছর ধরে প্রায় ৫০ শতাংশ মাটি ও পাথর ফেলার কাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনও জনসাধারণের দুর্ভোগ ঘুছেনি।

জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের ও ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তারিতে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির পিচ উঠে স্থানে স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে ৪ বছর যাবত সড়ক দিয়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। মানুষের মুখে মুখে সরকার, এমপি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের দোষারোপের যেন শেষ ছিল না। ভাড়া গাড়িতে উঠলেই লোকমুখে শুনা যেত মানুষের দুর্ভোগের কথাবার্তা। ২০১৯ সনের নভেম্বর থেকে ঠিকাদারের তত্ত¡াবধানে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হলেও ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রথম দফায় প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়। পরে কাজ পরিত্যক্ত থাকায় বৃষ্টিপাত ও যানবাহনের চাপে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে সড়ক দিয়ে যানবাহনে যাতায়াত করতে মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

জানা যায়, শমশেরনগর-মৌলভীবাজার-চাতলাপুর সড়কের ৩৪ কি.মি. এর মধ্যে ২০ কি.মি. সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ হওয়ার পর থেকেই ভাঙাচোরা সড়ক ফেলে রাখা হয়। এরফলে বৃষ্টিপাত ও যানবাহনের চাপে সড়কের বালু, পাথর সিটকে পড়ে পুরো সড়কজুড়ে ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরও আগে দু’বছর ধরে ২০ কি.মি. সড়কে ইট-সুরকি দিয়ে গর্ত ভরাট করার চেষ্টা চলে। এখনও সড়কে নিরাপদে গাড়ি চালাতে চালকদের যেমন সতর্ক থাকতে হচ্ছে, তেমনি যাত্রীরা সারাক্ষণই থাকেন ঝুকির মধ্যে। যানবাহনে যাতায়ত করতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এ সড়ক দিয়ে ভারতের কৈলাশহরের চাতলা শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের পণ্য আমাদানি-রপ্তারি করা হয়। জেলা সদরের এই সড়কে তিন উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক লোকের যাতায়াত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন না করায় ক্ষুব্দ এলাকাবাসী।

সওজ সূত্রে জানা যায়, সড়কের সংস্কার কাজের দায়িত্ব পায় এম.আর ট্রেডিং। ৪২ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হলেও পরে বন্ধ হয়ে পড়ে। ৩৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার এই সড়কের ২০ কি.মি. এলাকার বিভিন্ন অংশে পাথরের কাজ প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সড়কে যেসব বাজার রয়েছে ও যেসব স্থান বন্যায় তলিয়ে যায় সেসব স্থানেও কাজ হচ্ছে না। সেসব স্থানে আরসিসি ঢালাই ও উঁচু করে পুনঃনির্মাণ কাজ হবে।

এব্যাপারে এম.আর ট্রেডিং এর ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল জানান, কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুণরায় সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। ২০ কি.মি. সড়কের কাজ চলছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম বলেন, বৃষ্টির জন্য কাজ সম্পন্ন হয়নি। সড়কের ২০ কি.মি. কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ পাথরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দু’তিন মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে।