সীমান্তে সুড়ঙ্গ

বিশেষ প্রতিনিধি :: ২৭ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জের নিলামবাজার থানার শিলুয়া গ্রামের বাসিন্দা দিলোয়ার হোসেন। পরে বাড়িতে ফোন আসে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে মুক্তি মিলবে দিলোয়ার হোসেনের। অপহরণকারীদের কাছ থেকে যে নম্বর থেকে ফোন আসে সেটি বাংলাদেশি নম্বর। পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেন পুলিশের সাথে। বুধবার থানায় অপহরণের অভিযোগ দেন দিলোয়ার হোসেন বড়ভাই।পুলিশ পরামর্শ দেয় মুক্তিপণ প্রদানের কথা বলে অপহরণকারীদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে। পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের সাথে যোগাযোগ করলে পার্শ্ববর্তী নয়াগ্রামের বাসিন্দা এলিম উদ্দিনের কাছে ওই টাকা দিতে বলে অপহরণকারীরা। পুলিশ গ্রেপ্তার করে এলিম উদ্দিনকে। তবে তিনি পুলিশের কাছে কোনো তথ্য দেননি। অপরদিকে পুলিশ সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি-তল্লাশি চালালে বিদায়ী বছরের শেষ দিন দিলোয়ার হোসেনকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। তিনি ফিরে এসে পুলিশের কাছে চমকে দেওয়া তথ্য দেন। জানান, করিমগঞ্জ-সিলেট সীমান্তে সুরঙ্গের কথা। ২০০ মিটার দীর্ঘ সে সুরঙ্গ পেরিয়ে তাকে সীমান্তের ওপারে সিলেটে আটকে রাখা হয়। দিলোয়ার হোসেন জানান, তাকে একটি বিয়েবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী নয়াগ্রামের বাসিন্দা। তারপর বালিয়ার জঙ্গলে নিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে বেশ কিছুটা পথ যাওয়ার পর বাংলাদেশ পৌঁছে যান।
নতুন বছরের প্রথম দিন করিমগঞ্জের পুলিশ সুপার ময়ঙ্ককুমার ঝার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী বালিয়ার জঙ্গলে গিয়ে ওই সুড়ঙ্গের সন্ধান পায়। পুলিশের ওই দলে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জ্যোতি রঞ্জন দেবনাথ এবং নিলামবাজার থানার সিআই আনোয়ার হোসেন। আলামত দেখে পুলিশ বুঝতে পারে, ওই সুড়ঙ্গ ধরে অপকর্মকারীরা নিয়মিত যাতায়াত করে। সীমান্তের কাঁটাতারের নীচ দিয়ে পেরিয়ে গেছে ওই সুরঙ্গ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ, বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির টহল দলের পায়ের নীচ দিয়ে প্রতিদিনই এপার-ওপার করেছে দুষ্কৃতিকারীরা।
করিমগঞ্জের পুলিশ সুপার ময়ঙ্ককুমার জানান, তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিএসএফ-কে সুড়ঙ্গটি বন্ধের ব্যবস্থা করতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিএসএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেছেন। তার দাবি, শিগগিরই সকল অপরাধীদের করা হবে। ইতোমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।
সীমান্তের এপারের সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের জানান, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কোনো সুড়ঙ্গের অস্তিত্ব আছে বলে তারা শোনেননি।