মেয়র ও জেলা প্রশাসক বরাবর রিকশা শ্রমিকদের স্মরকলিপি প্রদান

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বরাবরে পৃথক পৃথক ভাবে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সিলেট জেলা রিকশা-শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি. নং- চট্ট-১৬৬৯- এর নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (২৮ ডিসম্বের) দুপুরে নেতৃবৃন্দ সিসিক কর্তৃক ঘোষিত চৌহাট্টা থেকে কোর্ট-পয়েন্ট পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি পেশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিক, সহ সভাপতি শাহ মিজানুর রহমান, সহ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক কোরবান আলী, অর্থ সম্পাদক মিজানুর রহমান মোল্লা, ক্রীড়া সম্পাদক বাহার উদ্দিন প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিলেটে ২০-২২ হাজার রিকশা শ্রমিকরা বসবাস করছেন। তাদের ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন স্কুলে ও কলেজে পড়ালেখা করছে। শুধুমাত্র রিকশা শ্রমের উপর নির্ভরশীল হয়ে শ্রমিকরা জীবিকা নির্বাহ করে। এই অবস্থায় সিলেটের প্রাণকেন্দ্রে জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজার মত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাত্রী বহন করতে না পারলে তাদের আয়-রোজগার অনেকাংশে কমে যাবে। এতে রিকশা শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহ করতে কষ্ট হবে এবং এ রাস্তা দিয়ে রিকশা চলাচল বন্ধ হলে বিভিন্ন জেলা থেকে সিলেটে রিকশা শ্রমিক আসবে না। ফলে রিকশা মালিকগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এমনিতেই রিকশা শিল্প ধীরে ধীরে ধ্বংস হওয়ার পথে। করোনা ভাইরাসের কারণে মালিক ও শ্রমিকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি অনেকেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তাদের জীবন যাপন করছেন। চাল-ডালের দাম শ্রমিকদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই রিকশা শ্রমিকদেরকে সরকারি সাহায্যের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, সিলেট জেলা রিকশা-শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- চট্ট-১৬৬৯-বিগত সময় সিলেটে রিকশা শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত দাবি-দাওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেছে। এই রাস্তা দিয়ে রিক্সা চলাচল বন্ধ হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ও কলেজে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটবে।

নেতৃবৃন্দ আশাবাদী সিলেট সিটি কর্পোরেশন শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত দাবি ও মানবিকদিক বিবেচনা করে চৌহাট্টা থেকে কোর্ট-পয়েন্ট পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে। শ্রমজীবী মানুষের উপার্জনের কথা বিবেচনা করে চৌহাট্টা থেকে কোর্ট-পয়েন্ট পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধ না করার জন্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়াও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও সিলেটের আঞ্চলিক লেবার ডাইরেক্টরসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
-প্রেসরিলিজ

একাত্তরেরকথা/ইআ