বিধানসভায় বিল কোরআন শিক্ষা বন্ধেই আসামে মাদ্রাসা বন্ধ


বিশেষ প্রতিনিধি :: ইসলাম ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন পড়ানো বন্ধ করার জন্যই মাদ্রাসাগুলোকে সাধারণ স্কুলে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্য সরকার। বিষয়টি বিধানসভায় স্পষ্ট করেই দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। এ লক্ষ্যেই ১৯৯৫ সালের আসাম মাদ্রাসা শিক্ষা প্রাদেশিকরণ আইন এবং ২০১৮ সালের মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের চাকরি প্রাদেশিকরণ ও পুনর্গঠন আইন বাতিলের বিল আনা হয়েছে বিধানসভায়। সোমবার ‘দ্য আসাম রিপিলিং বিল ২০২০’ বিধানসভায় উত্থাপন হতেই এর বিরোধিতায় সরব হয়ে উঠে কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ বেঞ্চ। জবাবে তখন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আরবি ভাষা শিক্ষায় সরকারের একবিন্দুও আপত্তি নেই। কিন্ত আরবি পড়ানোর নামে মাদ্রাসাগুলোতে কোরআন শিক্ষা চলতে পারে না। হিমন্ত বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন প্রতিটি ধর্ম থেকেই শেখার আছে। আধ্যাত্মিক দর্শন পড়া উচিত। প্রশ্নটা হচ্ছে, মাদ্রাসা মানে কী। সেখানে ধর্মীয় শিক্ষার বিষয় পড়ানো হয়। পরীক্ষায় এর ওপর নম্বরও থাকে। যদি মাদ্রাসায় সরকারি টাকায় কোরান পড়ানো চলতে থাকে তাহালে তো হিন্দু কিংবা খ্রিস্টান বিধায়করা এই প্রশ্নও তুলতে পারেন যে, কেন গীতা ও বাইবেল পড়ানো হবে না? হিমন্তের বক্তব্য বিলে কোথাও বলা হয়নি আরবি ভাষা পড়ানে হবে না। মাদ্রাসায় যদি শুধু আরবি পড়ানো হতো তাহলে তো রিপিলিং বিল আনার প্রয়োজনই পড়ত না। আরবি শিক্ষা বন্ধ করছে না সরকার। সরকারি মাদ্রাসায় কোরআন পড়ানোটা বন্ধ হচ্ছে। আর ধর্মীয় শিক্ষাই ঘদি না থাকে তাহলে মাদ্রাসার কী দরকার। সরকারি মাদ্রাসাগুলো সাধারণ স্কুলে রূপান্তরিত হবে। এসব স্কুলে আরবি ভাষায় শিক্ষাণ্ড চলবে। কোনো ভাষা শিক্ষার ওপর তো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, আরবির নামে কোরআন পড়ানো বন্ধ হবে। হিমন্ত মনে করেন, ব্যাবহারিক আরবি ভাষা শেখানোয় সরকারের আপত্তি থাকতে পারে না। কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য ধর্মীয় শিক্ষায় যতি টেনে দেওয়া।
হিমন্তের কথায়, আমি অনেক সভায় বলেছি ইসলাম জ্ঞানোন্মেষের কথা বলে। জেহাদ মানে যা কিছু খারাপ তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। বেদেও সেকথা বলা হয়েছে। কোরআন শরিফ নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি হয় না। কোরআনের অপবাখ্যা করেই বিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ইসলামি পণ্ডিত সরকারি টাকায় মাদ্রাসা পরিচালনার বিরোধিতা করেছেন। মেহমুদ মাদানিও একসময় বলেছিলেন, সরকারি টাকা মাদ্রাসার জন্য ব্যবহার করা যায় না।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, সুদীর্ঘকাল ধরে ভুল ব্যবস্থা চলছে। সত্তর বছর কেন, একবছরও এমন ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা চলা উচিত ছিল না। এর পাশাপাশি হিমন্ত জানান, বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোরও রেজিস্ট্রেশন থাকা উচিত
এর আগে কংগ্রেস বিধায়ক নুরুল হুদা, কমলাক্ষ দেপুরকায়স্থ, শেরমান আলি আহমেদ, রকিবুল হুসেন, এআইইউডিএফ-এর রকিবুল ইসলাম, হাফিজ বশির আহমেদ কাশিমিরা একসুর ধরে মাদ্রাসা বন্ধের বিরোধিতা করেছেন। হুদার মতে, মাদ্রাসা বন্ধ করা হলে এক কোটি দশ লক্ষ মানুষের সঙ্গে অন্যায় করা হবে।
কমলাক্ষ বলেছেন, আমাদের বেদ-উপনিষদের পাশাপাশি কোরআন জানাও দরকার। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই মাদ্রাসা শিক্ষার স্পষ্টীকরণের কথা বলেছেন, দেশের সংবিধানকে অক্ষুণ্ন রাখা সবার কর্তব্য। কমলাক্ষের মতে, মাদ্রাসাগুলোতে তো কোনও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় না। উত্তরপ্রদেশের মুখামন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য ৫৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। অথচ এই রাজ্য মাদ্রাসা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমলাক্ষের প্রশ্ন, এই বিলে সাধারণ মানুষের কী লাভ হবে। এরপরই কমলাক্ষের অভিযোগ, আসলে বিভেদ তৈরি করে ভোটের মুখে মেরুকরণের হাওয়া বইয়ে দিতেই এই বিল আনা হয়েছে।
রকিবুল হুসেন তার বক্তব্যে হিমন্তকে মনে করিয়ে দেন, হাইলাকান্দির এক সভায় তিনিই বলেছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষা কতটা জরুরি। একজন মানুষ কীভাবে পাল্টে গেলেন সেটাই আশ্চর্যের ।
অন্যদিকে, এআইইউডিএফ বিধায়ক কাশিমির বক্তব্য, এই বিল নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অভিমত নেওয়া হয়নি। তাই একসময় মাদ্রাসা প্রাদেশিকরণ আইন রচনা করেছিলেন হিমন্ত। আর আজ তিনি সেটাকেই ধ্বংস করে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি একহাতে কম্পিউটার অন্য হাতে কোরআন নেওয়ার কথা বলেছিলেন। উত্তরপ্রদেশেও মাদ্রাসা শিক্ষাবাবস্থাকে উন্নত করা হচ্ছে। পরে এই বিল সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি গ্রাহ্য না হওয়ায় ওয়াকআউট করেন এআইইউডিএক বিধায়করা।