বই মিলবে; উৎসব হবে না


তুহিনুল হক তুহিন :: প্রতি বছরের পহেলা জানুয়ারি বই উৎসব হয়ে থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। বই উৎসবে বাদ সেজেছে করোনাভাইরাস। সংক্রমণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে সরাসরি বই পৌঁছে দেবে স্কুলগুলো নিয়ে যাওয়া হবে। আর অন্যরা ১ জানুয়ারি স্কুলে উপস্থিত হয়ে পৃথক শ্রেণী থেকে নিজেদের বই সংগ্রহ করবে। বই উৎসব না হলেও স্কুলে স্কুলে বই পৌঁছানোর কাজ চলছে পুরোদমেই। ডিসেম্বর প্রথম দিকে সিলেটের ১৩টি উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম দফায় আংশিক বই পাঠানো হলে এ মাসের শেষের দিকে আরও কিছু বই সিলেট জেলা শিক্ষা অফিস থেকে পাঠানো হয়। সিলেটের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলাতেই ইতোমধ্যে শতভাগ বই পৌঁছে গেছে। বাকি ৭টি উপজেলায় বই পৌঁছার হার এখনও ৭০ ভাগের নিচে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ১৩টি উপজেলায় ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি, প্রাথমিক স্তর এবং নৃ-গোষ্ঠীর বই বরাদ্দের কথা ছিল ২৬ লাখ ৮ হাজার ৬২৬টি। এই চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ২১ লাখ ৭ হাজার ২৬টি। সেই হিসেব অনুসারে এখনও সিলেটের ১৩ উপজেলায় বইয়ের ঘাটতি রয়েছে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬০০ বইয়ের
যে ৬টি উপজেলাতে শতভাগ বই পৌঁছে গেছে সেগুলো হচ্ছে- সিলেট সদর, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও কানাইঘাট। এর মধ্যে সিলেট সদর উপজেলায় জন্য বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩৮টি, বালাগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৭৫ হাজার ৩৩৫টি, ওসমানীনগর উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৬টি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৪০টি, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ৯০০টি, কানাইঘাট উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪০০টি। বাকি উপজেলার মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৩টি, প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫টি, বই মিলেছে হার ৬৯ দশমিক ২৭ ভাগ। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৯৪টি, প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ৩৮ হাজার ১১৪ টি, বই মিলেছে ৬৯ দশমিক ১৭ ভাগ। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ২ লাখ ২৬ হাজার ২৭০টি, এ উপজেলায় প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ১লাখ ৫৩ হাজার ৬৭০টি, বই মিলেছে ৬৭ দশমিক ৯১ ভাগ। বিশ^নাথ উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৫৪৩ হাজার ৬০৩টি, এ উপজেলায় প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ১লাখ ২৮ হাজার ৬৩টি, বই মিলেছে ৬৬ দশমিক ৫৩ ভাগ। জকিগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দৃকত বইয়ের সংখ্যা ২ লখ ১৭ হাজার ৮০টি, প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৩০ টি, বই মিলেছে ৬৪ দশমিক ৬৯ ভাগ। জৈন্তাপুর উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৩১৭টি, প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ৮৪ হাজার ৮৫ টি, বই মিলেছে ৫৯ দশমিক ০৮ ভাগ। বিয়ানীবাজার উপজেলায় বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৬০০টি, প্রাপ্ত বইয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫০ টি, বই মিলেছে ৫৯ দশমিক ০৫ ভাগ।
সিলেটের শিক্ষা অফিসার নামজিদ খান বলেন, এবার সিলেটে কোনো বই উৎসব হবে না। তবে স্কুলে আলাদা আলাদা শ্রেণী কক্ষে বই বিতরণ করা হবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। যেসব উপজেলায় বই প্রাপ্তি কম হয়েছে সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।