এনআরসি নিয়ে চুপ অমিত শাহ


বিশেষ প্রতিনিধি ::
এনআরসি বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (কা) নিয়ে সব সময়ই সরব ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহ। তিনি কোথাও বক্তব্য রাখবেন আর এনআরসির প্রসঙ্গ আসবে না এমনটি খুব কমই ঘটে। শনিবার এ বিরল ঘটনাটি ঘটলো আসামে। কা নিয়ে একেবারে চুপই ছিলেন তিনি। আমিনগাঁওয়ের প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসভায় পাক্কা তিরিশ মিনিটের ভাষণ। বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে গলা চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বর শাহ। কিন্তু একবারের জন্যও তিনি মুখে আনলেন না এনআরসি বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিষয়টি। অথচ কা’কে ঘিরে ফের তপ্ত হচ্ছে রাজ্য। জাতীয়তাবাদী শিবিরগুলো তো বটেই, নতুন রাজনৈতিক দল এজেপি এবং রাইজর দলও কা-কে হাতিয়ার করে নিয়েই ভোটের মুখে বিজেপি-বিরোধিতায় শান দিচ্ছে। এদের দিকে শাহ তীর ছুড়েছেন, তবে কা নিয়ে একটা শব্দও না ঝরিয়েই।
রাজ্য রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, প্রায় দেড় বছর বাদে আসামে এসে আমিনগাঁওয়ের পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে ভাষণ দিতে গিয়ে কা-র প্রতিশ্রতিতে অটল থেকে থেকে নাগরিকত্ব ইস্যুতে বাঙালি হিন্দুদের পক্ষে কথার ফুলঝুড়ি ছোটাবেন অমিত শাহ। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে তিনি জোরগলায় বলেছেন, কা রূপায়িত হয়েই। এই আইনের বিধিও তৈরি করার পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। সেই প্রক্ষিতটাকে ধরেই অনেকে ভেবেছিলেন, এই রাজ্যের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দিক থেকে অর্থবহ কা-র প্রসঙ্গ তুলবেন দেশের স্বরাষ্টরমন্ত্রী। কেননা এর জমিটা তৈরিই হয়ে রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন করে দানা বাধছে কা-বিরোধী আন্দোলন। আসু, অজাযুছাপ-এর মত জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো ব্যাপক আন্দোলনের হুঙ্কার দিয়ে রাজপথ কাঁপাতে শুরু করে দিয়েছে
নবগঠিত রাজনৈতিক শক্তি আসাম জাতীয় পরিষদের সভাপতি, আসুর সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুরিনজৌাতি গগৈ প্রতিনিয়তই গলা উঁচু করেই বুঝাচ্ছেন, বিজেপির ভিতে আঘাত দিতে তাদের তুরুপের তাস কেবলই কা। এমন এক রাজনৈতিক পটতৃমিতে থাকা সত্তেও শাহর শাহী ভাষণে একবারের জন্যও উঠে এল না কা-র বৃত্তাত্ত। এর বিধি নিয়েও নিরুচ্চার থেকে গেলেন তিনি। অথচ এই সেদিন বরাকের মাটিতে দাঁড়িয়ে অর্থ-শিক্ষা-স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা আক্ষেপের সুরে বলেছেন, শত চেষ্টা করেও এনআরসি এবং ডিটেনশন ক্যাম্পের জ্বালা থেকে তারা ভারতীয়দের মুক্তি দিতে পারেননি। এর জন্য ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন হিমন্ত। ঘটনা হচ্ছে, এনআরসি-ছুট কয়েক লক্ষ বাঙালি হিন্দুর শেষ ভরসা কা-র রূপায়ণ। কিন্তু এখনও সমগ্র বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। অতএব এই প্রেক্ষাপটে হিমন্তের ক্ষমাপ্রার্থনা নিঃসন্দেহে অর্থবহ এবং চলতি রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে মাথায় রেখেই আমিনগাঁওয়ের জনসভা থেকে কা এবং এনআরসি নিয়ে কিছু একটা বার্তা দেবেন শাহ, এমন ভাবনা স্বভাবতই ছিল বিভিন্ন মহলের । কিন্তু দুটো ইন্গুকেই সম্তর্পণে এড়িয়ে গেলেন তিনি।