সেলিনা ইয়াসমিনের মৃত্যু : কারা দায়ী?

আসিফ ইকবাল ইরন, ফেঞ্চুগঞ্জ :: ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিন মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুর ১টায় তিনি ঢাকার এভারকেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে শোক ছুঁয়েছে পুরো ফেঞ্চুগঞ্চ উপজেলাকে। শোক ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে মৃত্যুর পূর্বে ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস। যে স্ট্যাটাসে তিনি তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন তিনজনকে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর ফেঞ্চুগঞ্জ জুড়ে এখন একটাই আলোচনা-কারা সেই তিন ব্যক্তি।
৫ ডিসেম্বর স্ট্রোক করেন সেলিনা ইয়াসমিন। অসুস্থ হবার আগে ওইদিনই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সেলিনা ইয়াসমিন। সেই স্ট্যাটাসে তিনি তার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে উল্লেখ করে বলেন-‘যদি আমার শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার কোনো ক্ষতি হয়, তার জন্য মাত্র তিনজন মানুষ দায়ী থাকবে। সমস্ত প্রমাণ আমার মেয়ের কাছে আছে। যথোপযুক্ত সময়ে আমার মেয়ে তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবে। মনে রাখবেন শুধু তিনজন মানুষ এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমার ও আমার মেয়ের জন্য সকলে দোয়া করবেন।’ ফেসবুকে এটিই ছিলো তার শেষ স্ট্যাটাস। এর পরদিন তিনি সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার এভারকেয়ার ভর্তি করা হয়।
সেলিনা ইয়াসমিন সাংবাদিক ইয়াসির ইয়ামিনের স্ত্রী। স্বামীর সাথে সম্পর্কে বনিবনা না হলে সেঁজুতি নামের মেয়েকে নিয়ে একলা জীবন পার করছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৪০ বছর। সেলিনা ইয়াসমিন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাদে দেইলি ঘিলাছড়া গ্রামের সাবেক সেনা কর্মকর্তা মৃত তাহির আহমদের মেয়ে ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরফান আলীর নাতনি। সেলিনা ইয়াসমিনের জানাজার নামাজ আজ দুপুর ২টায় ফেঞ্চুগঞ্জের ঘিলাছড়া হযরত শাহ সৈয়দ আলীর (রাহ.) মাজার সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর ফেঞ্চুগঞ্জের সুশীল সমাজসহ নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়রা পোস্টটি নিজেদের টাইমলাইনে শেয়ার করে তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের প্রশ্ন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিনকে তার মৃত্যুর আগে শারীরিক, মানসিক অত্যাচার করা সেই তিন ব্যক্তি কারা?
সেলিনা ইয়াসমিনের স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ফরিদ উদ্দিন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘সদ্য প্রয়াত সেলিনা আপার একটি পোস্ট ভাবিয়ে তুলছে! উনার পরিবার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবার গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’ ফরিদের সেই পোস্টে একজন কমেন্ট করেন, ‘এরা কারা জনতা জানতে চায়?’
সাংবাদিক রুমেল আলী তার স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমাদের সেলিনা আপার মেয়েকে নিরাপত্তা দিন। সেই ছোট্ট মেয়েটির কাছে সকল তথ্য।’ রুমেলের সেই স্ট্যাটাসের নিচে একজন কমেন্ট করেন, ‘যেহেতু, উনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিলেন। সরকারে কাছে এ বিষয়টি নজরে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানাচ্ছি ।’
ফেঞ্চুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন ইসকা বলেন, যদি তার স্ট্রোকের পিছনে এইরকম কোনো কারণ থাকে তবে তা অবশ্যই তদন্তের দাবী রাখে।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে আমাদের তিনি কিছু বলেননি। তাই এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।
সেলিনা ইয়াসমিনের চাচাতো ভাই ফুজায়েল ইসলাম মুহিত বলেন, ‘আসলে আপু (সেলিনা ইয়াসমিন) ঐ পোস্ট দেওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাথে স্ট্রোকও করেন। আলাপ করার মত অবস্থা উনার ছিল না। তাই বিশেষ কিছু জানিনা।’