৮ মাসেও বিল পায়নি পিআইসি

ধর্মপাশা প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতকাজ শেষ করার পর আট মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ চূড়ান্ত বিল সংশ্নিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে (পিআইসি) এখনও পরিশোধ করেনি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। অথচ পাউবোর বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করতে গিয়ে প্রতিটি পিআইসির সদস্যকে ধারদেনা করতে হয়েছে। কেউ কেউ জায়গাজমি বিক্রি বা বন্ধক রাখাসহ বিক্রি করেছেন গরু বাছুর। দীর্ঘ সময় পরও বিলের টাকা না পেয়ে পাওনাদারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন পিআইসির অনেক সদস্য।
ধর্মপাশা উপজেলার আটটি হাওরে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে ১৭৯টি পিআইসি গঠন করা হয়। প্রতিটি পিআইসিতে পাঁচ সদস্যের প্রত্যেকেই কৃষক। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করে তা এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা মার্চ মাসের মাঝামাঝি এসে শেষ হয়। আর এসব কাজে ১৭৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় ধরা হয় ৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কাজ শেষে প্রতিটি পিআইসিকে চতুর্থ বা চূড়ান্ত বিল পরিশোধের কথা। কিন্তু কাজ শেষ করার ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা পরিশোধ করা হয়নি। কবে তা পরিশোধ করা হবে, তাও পিআইসিগুলোর কাছে অজানা। চূড়ান্ত বিল পরিশোধের জন্য সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলা থেকে জেলা সদরে গিয়ে পিআইসি সদস্যরা মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তবুও কোনো আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি।
ধর্মপাশা উপজেলার ১৫০নং প্রকল্পের সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার জন্য বিভিন্ন সময় পিআইসি সদস্যদের জেল-জরিমানাও করা হয়েছে। তবুও তারা ধারদেনা করে টাকা সংগ্রহ করে যথাসময়ে কাজ শেষ করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত বিল না পাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলার সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, পাঁচ সদস্যের পিআইসিতে প্রত্যেকেই প্রান্তিক কৃষক। যাদের কাছে বাঁধের কাজ করানোর জন্য লাখ লাখ টাকা জমা থাকে না। তবুও তারা কাজ শেষ করেছেন। দীর্ঘ সময় পরও চূড়ান্ত বিল না পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউএনও মুনতাসির হাসান বলেন, পিআইসিগুলোর চূড়ান্ত বিল পরিশোধের জন্য সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধের জন্য পাউবো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, চলতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ করার সম্ভাবনা রয়েছে।