দলের ভরসায় থাকতে চান ট্রাম্প!

হেলাল উদ্দীন রানা
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত ও নিন্দিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তার গত চার বছরের শাসনকাল যেমন ছিল সাসপেন্সে ভরপুর ঠিক তেমনি বিদায়বেলাও সমান ভাবে ‘স্মরণীয়’ হয়ে থাকবে তার নানা কর্মকান্ডের মধ্যে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসে আট বছর পূর্ণ না করার মনোবেদনা প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা জালিয়াতির অভিযোগে বৃহস্পতিবার আবারও ট্রাম্প ৪৬ মিনিট স্থায়ী একটি ভিডিও রিলিজ করেছেন। কোনো টিভি চ্যানেল তা প্রচার না করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার ও ফেসবুকে এই ভিডিও চিত্র আপলোড করা হয়েছে। তবে সোসাল মিডিয়াদুটি যথারীতি সাথে জুড়ে দিয়েছে সতর্কীকরণ ফ্ল্যাগ। তার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচনে কোনো বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি বলে মন্তব্য করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দারুণ চটেছেন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের উপর। তাই হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বারের উপর বিরক্ত প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা কোনো তদন্তই করেনি আসলে। তদন্ত করলে এত বিশাল জালিয়াতি নিশ্চই দেখতে পেত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে মেজাজ মর্জি বলা যায়না তার এই শেষ সময়ে এসেও বারকে একহাত দেখে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। মাত্র সপ্তাহ দুই পূর্বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে কোন জালিয়াতি বা অনিয়ম হয়নি বলে মন্তব্য করায় নির্বাচন সংক্রান্ত সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান ক্রিস ক্র্যাবসকে এক টুইটের মাধ্যমে বরখাস্ত করেন। তার আগে জর্জিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান ক্যাম্পকে তার কথামত নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি টুইটে করে বলেছিলেন ক্যাম্পকে নির্বাচনে এন্ডোর্স করার জন্য লজ্জা বোধ করছেন।
এদিকে, ট্রাম্পের প্রধান আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি প্রেসিডেন্টের কথিত ভোট জালিয়াতির ইস্যু নিয়ে রাজ্য থেকে রাজ্যে চষে বেড়ালেও কোনো রকমের ফল লাভ ছাড়াই ব্যর্থ মনোরথে আবার ওয়াশিংটনে প্রত্যাবর্তন করছেন। বৃহস্পতিবার মিশিগানে স্থানীয় আইন প্রণেতাদের সাথে জুলিয়ানি এরকম একটি শুনানিতে অংশ নেন। কিন্তু কোনো প্রকারের প্রমাণ হাজির করতে না পারায় এই শুনানির ফলাফল হয় শূন্য। জর্জিয়ার আটলান্টায় একই বিষয়ে একই ধরনের একটি হেয়ারিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন জুলিয়ানি।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবার প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকতে না পারলে ২০২৪ সালে আবার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করবেন তার রিপাবলিকান পার্টির টিকেটে এমন গুঞ্জন দিন দিন জোরালো হচ্ছে। এ বিষয়ে যেকোনো সময় তিনি ঘোষণা দিতে পারেন। এমনকি তা হতে পারে নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের দিনও। অপরদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে তৃতীয় মেয়াদে রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান পদে থাকতে আবার জোরালো তৎপরতা শুরু করেছেন রোনা ম্যাকড্যানিয়েল। গতবারও ট্রাম্পের সমর্থনের জোরে এ পদে আসেন। তিনি ট্রাম্পের খুবই কাছের জন হিসেবে পরিচিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবকিছুতে তার সাথে কন্ঠ মেলাতে রোনা ম্যাকডানিয়েল এক পায়ে খাড়া।
আর এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পছন্দ তাকে। বৃহস্পতিবার রাতে সিএনএনের সাংবাদিক জ্যাক ট্যাপারকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেন ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এক যৌথ সাক্ষাৎকার দেন। জ্যাক ট্যাপার বাইডেনকে প্রশ্ন করেন,আপনার শপথ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত থকবেন কি-না এখনও বলেননি এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী? জবাবে বাইডেন প্রথমে হেসে দেন। বাইডেন বলেন,,ট্রাম্প যে ঘোলাটে পরিস্থিতি আমেরিকায় সৃষ্টি করেছেন আমি এর ইতি ঘটাতে চাই। আমি ক্ষমতা নিতে চাই গণতন্ত্রিক নিয়মে। হাত মেলাবো তারপর উভয় উভয়ের পথে চলে যাব। অভ্যন্তরীণ নয় আন্তর্জাতিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজকে সমুন্নত রাখতে হবে আমাদের। তা না হলে বিশ্বে ভুল বার্তা যাবে। বিশ্ব ভাববে যুক্তরাষ্ট্রে স্বৈরতন্ত্র চলছে। ব্যক্তি আমির জন্য নয়, দেশের স্বার্থে তার উপস্থিত থাকা উচিত।