শম্পাকে আর ভ্যান চালাতে হবে না, দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

একাত্তরের কথা :: জামালপুর সদর উপজেলার স্কুলছাত্রী শম্পা (১১) ভ্যান চালিয়ে অসুস্থ বাবা শফিকুল ইসলামের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ যোগাচ্ছিল। অবশেষে তার সেই কষ্ট লাগব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার চিকিৎসার খরচ ও তাদের বাসস্থানের দায়িত্ব নিয়েছেন। ‘ভ্যান চালায় শিশু শম্পা’ শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হককে শম্পার বাবার চিকিৎসা ও তার পরিবারের বাসস্থানসহ পুনর্বাসনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। শম্পা সদর উপজেলার নাকাটি গ্রামের ভ্যানচালক শফিকুল ইসলাম ওরফে ভাসানীর দ্বিতীয় কন্যা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পেয়ে বুধবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা ইয়াছমিন শম্পাদের বাড়ি যান। এ সময় তাদের ঝুপড়ি ঘর ভেঙে একটি পাকা ঘর নির্মাণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। একইসঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে অসুস্থ শফিকুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় মন্ত্রীর কার্যালয়ে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, শম্পার ভ্যান চালানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার বাবাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা, তাদের নতুন ঘর নির্মাণসহ পরিবারটির পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। পাঁচ বছর আগে বাসচাপায় তার ডান পা অচল হয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়েন তিনি। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করেছেন। সবকিছু বিক্রি করে সাত লাখ টাকা খরচ করেও সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি।

সংসারে আয়-রোজগারের কেউ না থাকায় দুর্ঘটনার পর থেকে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে সংসারের হাল ধরতে বছরখানেক আগে ছোট মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী শম্পা বাবার ভ্যান গাড়িটি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। প্রতিদিন বাবার ওষুধের টাকা আর সংসারের খরচ যোগাতে থাকে শম্পা। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে আসায় অসুস্থ শফিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী নেবুজা খাতুন ও মেয়ে শম্পা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।