মাস্ক ব্যবহারে অনিহা, সিলেটে নতুন আক্রান্ত ৩০

এনামুল কবীর :: বৈশ্বিক মহামারি করোনায় মৃত্যুহীন আরেকটা দিন কাটালেন সিলেটবাসী। তবে আক্রান্তের সংখ্যায় খুব একটা তারতম্য হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন সচেতনতার কাজ চালিয়ে গেলেও জনগনের সাঁড়া মোটেও সন্তোষজনক নয়।

গত ২৪ ঘন্টায় বিভাগজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০। এ নিয়ে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১৪ হাজার ৭শ’ ৯।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ আক্রান্ত সিলেট জেলা, ৮ হাজার ৫শ’ ৯, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৪শ’ ৭০, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৮শ’ ৯৫ ও মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৮শ’ ৩৫।

এ সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৩৩ জন। সব মিলিয়ে এ বিভাগে সুস্থ রোগীর সংখ্যা এখন ১৩ হাজার ৫শ’ ১৯।

তাছাড়া সুস্থ হয়েছেন সিলেট জেলার ৭ হাজার ৮শ’ ২৯, সুনামগঞ্জের ২ হাজার ৪শ’ ১২, হবিগঞ্জের ১ হাজার ৫শ’ ৬৪ ও মৌলভীবাজার জেলার ১ হাজার ৭শ’ ১৪ জন।

আগের ৩ দিনের মতো গত ২৪ ঘন্টায়ও সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। বিষয়টি মোটামুটি খুশির হলেও এ পর্যন্ত বিভাগজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা কিন্তু আড়াইশ’ ছুঁইছুঁই, ২৪৪।

মৃতদের মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ, ১৮১ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জে ২৫, হবিগঞ্জে ১৬ ও মৌলভীবাজারের ২২ জন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাসের উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ৯শ’ ৮৬ জন।

এর মধ্যে ৪৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। অন্যরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুলতানা রাজিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শীতের তীব্রতার সাথে করোনার দ্বিতীয় ঢেউও বাড়তে থাকবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাই ঘটছে। এমনকি বাংলাদেশেও। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সিলেটেও চলছে এ প্রচারণা। প্রায় প্রতিদিন সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে মাইকিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মাস্ক বিতরণও করছে।

তবে এ ক্ষেত্রে জনগন খুব একটা আগ্রহী নয়। সিলেট মহানগরীর কয়েকটি পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। তারা জরিমানাও করছেন। কিন্তু তবু সাধারণ মানুষ অনেকটাই বেপরোয়া।

সরকারের নো মাস্ক নো সার্ভিস শীর্ষক কার্যক্রমও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। কে শোনে কার কথা?

সিলেট মহনগরীতে ব্রাম্মনবাড়িয়ার জইন উদ্দিন (৫০) দীর্ঘদিন থেকে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই মহামারীকালেও মাস্ক ছাড়াই রিকশার প্যাডেল ঘুরাচ্ছেন তিনি।

৪ সন্তানের জনক জইন উদ্দিন এ প্রতিবেদকের সাথে আলাকালে যা বললেন, তার সারমর্ম হচ্ছে- আল্লা ভরসা। করোনা হওয়ার হলে হবে, ওসব মাস্ক-টাস্কে কাজ হবেনা।

মাত্র ৫ টাকায় একটা মাস্ক কিনতে পারেন না? প্রশ্নের পরিস্কার জবাব, না বাবা ওসব ভাল্লাগেনা।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ হোটেল-রেঁস্তোরায়ও সরজমিনে দেখা গেছে, মাস্কের কোন বালাই নেই। মালিক-শ্রমিক-কাষ্টমার, প্রায় সবাই মাস্কবিহীন নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে তালতলা ভিআইপি রোডের এক সাধারণ মানের রেস্টুরেন্ট মালিক নাজিম উদ্দিন (৪৫) বলেন, ভাই দম নিতাম পারিনা। অউদেখইন, মাস্ক পকেটো। কিন্তু বুঝা যায় দম বন্ধ অইযার।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সিলেট বিভাগের সহকারি পরিচালক (স্বাস্থ্য) আনিসুর রহমান একাত্তরের কথাকে বলেন, আমরা ‌’নো মাস্ক নো সার্ভিস’ ব্যানার বিভিন্ন জায়গায় টানিয়েছি। জেলা প্রশাসন থেকে আইনী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই মুহুর্তে আর কিছু করনীয় নেই। তবে সরকার যদি কোন সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আমরা তা বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, এখন কঠিন সময়। করোনা মোকাবেলায় মাস্ক ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। জনগনকে এটা বুঝতেই হবে।