নিজেই নিজেকে ক্ষমা করবেন ট্রাম্প!

হেলাল উদ্দীন রানা :: যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর মাত্র এক মাস ক্ষমতায় আছেন। আগামী ২০ জানুয়ারি নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তল্পিতল্পা গুছিয়ে তাকে ছাড়তে হবে হোয়াইট হাউস। নির্বাচনী ফলাফল পাল্টাতে প্রায় অর্ধশত মামলা করেও পাননি কোন কাক্সিক্ষত ফল। তাই এই শেষ সময়ে তিনি নিজেকে ও তার পরিবার পরিজনদের রক্ষার নানা কলা কৌশল খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে হলেও আগামী দিনের যাবতীয় আইনী ঝামেলা এড়াতে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পারডন’ বা দায় মুক্তির পথ খুঁজছেন। প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমার আওতায় নিজেসহ তার সিনিয়র উপদেষ্টা ও কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প, পুত্র ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প, সিনিয়র উপদেষ্টা মেয়ের জামাই জ্যারেড কুশনার এবং তার প্রধান আইনজীবী রুডি জুলিয়নিকে ক্ষমা ঘোষণা করতে হোয়াইট হাউসের সিনিয়র উপদেষ্টাদের সাথে শলা পরামর্শ করছেন বলে জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিবারবর্গের এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা ক্ষমতা থেকে সরে গেলে সামনে আসতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই দায়মুক্তির পথ খুঁজছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিখ্যাত সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস হোয়াইট হাউসের একটি বিস্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে এই এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট প্রকাশ করে বুধবার। ইতিপূর্বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে ক্ষমা করার কথা ঘোষণা করেন। মাইকেল ফ্লিন ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার কানেকশন নিয়ে এফবিআইয়ের কাছে শপথ নিয়ে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছিলেন। তিনি নিজে আদালতে দোষও স্বীকার করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক ঘনিষ্ঠ শুভাকাক্সক্ষী প্রেসিডেন্টকে নিজে নিজেকে ক্ষমা করে দিতে দাবী জানাচ্ছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট নিজেকে নিজে ক্ষমা করতে পারেন কিনা এই নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে এর সুস্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। এই প্রশ্নে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত আছে।
প্রেসিডেন্টের আইনজীবী রুডি জুলিয়নি তাকে ক্ষমা করে দিতে প্রেসিডেন্টের দ্বারস্থ হয়েছেন- নিউইয়র্ক টাইমস এমন খবর প্রকাশের পর জুলিয়নি দৃঢ়ভাবে তা অস্বীকার করেছেন। জুলিয়নির নিজেরও অনেক ঘাপলা আছে যা তার জন্য পরে বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি কোনো রাজ্যে অপরাধ করে থাকলে এই দায় মুক্তি সেক্ষেত্রে সুরক্ষা দিতে পারবে না। ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালত ঘুষের বিনিময়ে এরকম একটি ক্ষমা করার ঘটনা উদঘাটিত করেছে। বর্তমানে বিচার বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করছে। ডিস্ট্রিক্ট জজ ব্যারিল হাওয়েল ২০ প্ষ্ঠৃার সম্পাদনা করা একটি দলিল প্রকাশ করেন যার অর্ধেক পড়ার অযোগ্য। যা কালি দিয়ে সম্পূর্ণ লেপে দেয়া হয়েছে। বিচারক একে ‘ব্রাইবারি ফর পারডন’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে এই ঘটনার সাথে কে বা কারা জড়িত তা প্রকাশ করা হযনি।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনে জালিয়াতির বিষয়ে ক্রমাগত মিথ্যা দাবিকে পরিস্কার করে ধুয়ে দিয়েছেন তার নিজের নিয়োগ দেয়া অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বার বলেন, বিচার বিভাগ ও এফবিআই সে রকমের কোনো ভোট জালিয়াতির ঘটনা খুঁজে পায়নি যাতে করে ভোটের ফলাফল পাল্টে যেতে পারে। বার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
উইলিয়াম বারের এমন বক্তব্য ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বিপর্যয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফক্স নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ভোট জালিয়াতির ঘটনায় তার বিচার বিভাগ ও এফবিআই জড়িত থাকতে পারে। অপরদিকে, জর্জিয়া রাজ্যের একজন উর্ধতন নির্বাচনী কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান সিনেটরদের নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা দাবি থেকে সরে আসার আহবান জানিয়েছেন। গ্যাবরিয়েল স্টারলিং নামের এই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রেসিডেন্টের জালিয়াতির মিথ্যা বক্তব্য প্রচারে তার কট্টর সমর্থকদের উস্কে দিচ্ছে।
নির্বাচনী কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অব্যাহতভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে টেক্সট ম্যাসেজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান নেতৃত্বকে এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের নিন্দা জ্ঞাপনের আহবান জানান। তিনি বলেন এগুলো এখনই বন্ধ করুন। নতুবা জর্জিয়ায় কোনো ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটলে এর দায় দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচন ফলাফল পাল্টে দেবেন এমন স্বপ্ন দেখিয়ে নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত তার ভক্ত ও সমর্থকদের নিকট থেকে ১৭০ মিলিয়ন ডলারের বেশি চাঁদা আদায় করে নিজের একটি তহবিল সংগ্রহ করেছেন। তবে এই তহবিলের সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ কোন খাতে ব্যায় করা হবে তা এখনও জানা যায়নি।