যুক্তরাষ্ট্রের ডায়রি: এখন কি করবেন ট্রাম্প

হেলাল উদ্দীন রানা :: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে হচ্ছে। তার সকল আশার পথই রুদ্ধ হয়ে আসছে একে একে। এতদিন ধরে লালন করা ফল পরিবর্তন হতে পারে এমন ভরসার উপর শেষ পেরেক টুকে দিয়েছে ব্যাটেলগ্রাউন্ড অ্যারিজোনা ও উইসকনসিন। সোমবার অন্য ৪টি ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যের মতো উইসকনসিন ও অ্যারিজোনা তাদের ভোটের সরকারিভাবে সার্টিফিকেশনের কাজ সম্পন্ন করেছে। এতে করে ব্যাটেলগ্রাউন্ড বলে বিবেচিত ৬টি রাজ্যের সবকটি ইলেক্টোরাল ভোট জোসেফ বাইডেনের বাক্সে জমা হলো। সেই সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামান্য ক্ষীণ আশার প্রদ্বীপও নিভে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কিন্তু পরাজয় বরণ করতে অস্বীকার করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন এখনও। এসব সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তিনি আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এর আগে ব্যাটেলগ্রাউন্ড জর্জিয়া, পেনসেলভেনিয়া মিশিগান ও নেভাদা তাদের রাজ্যের সরকারি ফলাফলের সার্টিফিকেশন প্রত্যয়ন করে ফেডারেল সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।


সোমবার প্রথমে অ্যারিজোনার সেক্রেটারি অব স্টেট ডেমোক্র্যাট কেটি হোবস এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্যের ইলেক্টোরাল ভোটের সার্টিফিকেশন স্বাক্ষর করেন। এসময় রিপাবলিকান গভর্নর ডউগ ডোসি, অ্যার্টর্নি জনারেল মার্ক ব্রনোভিস ও রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রর্বাড ব্রুটিনেল উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর নিজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন ঘোর সমর্থক। রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সমর্থন করে গভর্নর বলেন, তার রাজ্যে অত্যন্ত চমৎকার স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রকারের অনিয়ম হয়নি।


গভর্নর যখন সার্টিফিকেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ঠিক তখনই প্রায় ২ মাইল দুরে ফিনিক্স হায়াত রেজিন্সি হোটেলে একদল আইনজীবী ও সমর্থক নিয়ে সভা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা বিবৃতির মাধ্যমে এই সার্টিফিকেশন দেয়া হয়েছে। তিনি আইনি উপায়ে তা মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর উইসকনসিনের সার্টিফিকেশন প্রদান করা হয়। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন মিস অ্যান জ্যাকব মাত্র ৩ মিনিটের এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এতে স্বাক্ষর করেন এবং সাথে সাথে রাজ্যের গভর্নর টনি ইভার্সের সত্যায়িত করার মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়।
নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেন সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ১৪৮ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৯ ইলেক্টোরাল ভোট লাভ করেছেন। বাইডেনের পক্ষে ১৬টি রাজ্য এবং ট্রাম্পের জয়লাভ করা ২১টি রাজ্যের ভোটের সরকারি সার্টিফিকেশন ইস্যু করা হয়েছে। আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সব রাজ্য তাদের ভোট সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ করে ফেডারেল সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ক্যাম্পেইনের পক্ষে এখন পর্যন্ত ৪১টি মামলা এসব ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা হয়েছে। এরমাঝে ইতিমধ্যে ২৭টি মামলা ডিসমিস, প্রত্যাহার অথবা বাতিল হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় ভোট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি ট্রাম্প শিবির। নতুন করে আরো মামলা জমা পড়তে পারে আদালতে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবেই হোক তার এই কথিত জালিয়াতির দাবি নিয়ে শেষ গন্তব্যে ইউএস সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছাতে চান। কিন্তু তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত পৌঁছানো তার জন্য বেশ কঠিন হবে। এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সোমবার রাষ্ট্রীয় অতি গোপনীয় ক্লাসিফাইড সিক্রেট ব্রিফিং পেয়েছেন। অন্যদিকে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার মন্ত্রীসভা গঠনে চমক দেখিয়ে চলেছেন। হোয়াইট হাউসের নতুন গণসংযোগ দল গঠন করছেন শুধুমাত্র নারী সদস্যদের দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়েছেন জ্যানেট ইয়েলনকে। নতুন প্রশাসন জুড়ে নারীদের জয়জয়কার পরিলক্ষিত হচ্ছে।