খসে পড়ছে তার মুখোশ

স্টাফ রিপোর্ট :: স্বঘোষিত ‘ক্লিন ইমেজের’ দাবিদার তিনি। দাবি করেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিচর্চার। তাকে বেশিরভাগ সময়ই সফেদ পাঞ্জাবিতে দেখা যায়। দাগহীন, উজ্জ্বল সে পাঞ্জাবিতে যেনো তিনি ঘোষণা দিতে চান নিজের ‘পরিচ্ছন্নতা’র। তবে সবই যে মেকি তা স্পষ্ট হচ্ছে ধীরে। অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত উপশহর নিয়ে গঠিত সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি। বাইরে থেকে এক রকম মনে হলেও নিজের এলাকার মানুষ সালেহ আহমদ সেলিমকে চেনেন অন্য পরিচয়ে। তাদের কাছে তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তিনি তার অনুসারীরা তটস্থ করে রেখেছেন পুরো উপশহরকে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সব কিছুই মুখ বুঝে সহ্য করেন স্থানীয়রা। ভয়ে মুখ খুলেন না। মনের কথা তারা মুখে আনেন না। তাদের সে নীরব দীর্ঘশ্বাস ধরা পড়ে একাত্তরের কথার চোখে। রোববার একাত্তরের কথায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে উপশহরের বাসিন্দারা যেনো নিজেদের মনের কথাটাই পড়ে নেন পত্রিকার পাতায়।
এরপর প্রতিদিনই ফোন আসছে একাত্তরের কথার অফিসে। নিজেদের মনে চাপা থাকা দুঃখগুলো তারা শুনাতে চান। তবে তাদের ভয় এখনও কাটেনি। তাই তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চান না। কেউ ফোন দেন শুধু একাত্তরের কথাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্যও। তাদের তৃপ্তি, কেউ তো অন্তত তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিক্রিয়া এসেছে অন্য দিক দিয়েও। হঠাৎ আসা ঝড়ে মুখোশ খসে পড়ায় তিনি যেনো দিশেহারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওতে সামনে আসেন। ধরে রাখতে পারেননি তার ‘ক্লিন ইমেজে’র মুখোশ। মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে থাকে অশালীন, শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা। যারা তার বক্তব্য শুনেছেন তারা যেনো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেন না, এই কি তবে সালেহ সেলিম। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন প্রতিবাদ জানাতে থাকে। দাবি জানায় তার অশ্লীল, আপত্তিকর ও অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহারের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হতে থাকেন সালেহ সেলিমের অনুসারীরাও। সিলেটের মানুষরা বিস্মিত হতে থাকেন। সালেহ সেলিমের পক্ষে যারা মন্তব্য করছেন, বক্তব্য রাখছেন এরা কারা? এদের বেশিরভাগই সিলেটের চিহ্নিত জুয়াড়ি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী। এই কি তবে সালেহ সেলিমের বলয়?