কমলগঞ্জে মণিপুরি মহারাস উৎসব সম্পন্ন

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: বৈশ্বিক মহামারী করোনাকে উপেক্ষা করে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো লোকের সমাগমের মধ্যদিয়ে এ রাসোৎসব সম্পন্ন হয়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু কিশোরদের অংশ গ্রহণে রাখাল নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১২টার পর থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী পোষাকে সজ্জিত মণিপুরী তরুণীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মণিপুরী মহারাসলীলা উৎসব। মঙ্গলবার ঊষা লগ্নে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। রাসোৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার ভক্ত ও দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে কমলগঞ্জের মণিপুরী পল্লী। উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের তিনটি পৃথক স্থানে এ মহারাসলীলা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাধবপুর শিববাজার এলাকায় মণিপুরি ললিতকলা একাডেমীর সংলগ্ন জোড়ামন্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের মহারাসলীলা অনুষ্ঠিত হয়। রাতভর রাধাকৃষ্ণের প্রণয়োপখ্যানের সে রাসলীলা উপভোগ করেন আগত ভক্তবৃন্দসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আগত দর্শকরা। আদমপুরে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সসহ দুটি পৃথক মন্ডপে মৈতৈ মণিপুরি সম্প্রদায়ের শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে সোমবার দুপুর থেকে শ্রীকৃ‘ের ছোট বেলার রাখাল নৃত্য পরিবেশন করা হয় সন্ধ্যা পর্যন্ত। মণিপুরি কালচারাল সেন্টার প্রাঙ্গণে রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক এ কে শেরাম প্রমুখ।
সন্ধ্যায় মাধবপুর শিববাজার জোড়ামন্ডপ এলাকায় মণিপুরী রাসলীলা উৎসব পরিদর্শনে আসেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক ও কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিকসহ নানা-পেশার লোকজন।