শ্রীমঙ্গলে চা-শ্রমিকদের মানববন্ধন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: শ্রম আদালতের আদেশ বাস্তবায়নসহ চা-শ্রমিকদের ৭ দফা দাবি জরুরিভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন করেছে চা-শ্রমিকরা। রোববার সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন (একাংশ) এর আইনানুগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উক্ত পরিষদের সহ সভাপতি মরলী ধর গোয়ালা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিমল সিং বাড়াইক, মহিলা সম্পাদিকা শ্যামলী বুনার্জি, সদস্য রঞ্জন চাষাসহ চা-শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা।

মানববন্ধনে চা শ্রমিকদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, নেতৃবৃন্দ চা শিল্প ও চা-শ্রমিকদের বৃহত্তর স্বার্থে ১৫ দিনের মধ্যে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। এসব দাবি সংশ্লিষ্ট দপ্তর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশাকরি ও বিশ্বাস রাখি। এ বিষয়ে চা-শ্রমিক বান্ধব বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ একান্তভাবে কামনা করছি।

৭ দফা দাবিতে রয়েছে- শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে পেশকৃত ২য় আদালতের আদেশ জরুরিভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা, ওই আদেশ অনুযায়ী ২০০৬ সালের ৩০ এপ্রিল ইউনিয়নের অনুমোদিত গঠনতন্ত্র ২০০১ মোতাবেক নির্বাচিত কমিটির নিকট ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয় শ্রীমঙ্গলের লেবার হাউস জরুরিভিত্তিতে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োাজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ইউনিয়নের আসামি ৩০তম ত্রি-বার্ষিকী সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শ্রম আদালতের আদেশ মোতাবেক বিদ্যমান কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করা, ইউনিয়নের আভ্যন্তরিন নির্বাচনে কোনরকম সরকারি অর্থায়ন না করা, বর্তমান বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে চা শ্রমিকদের বর্তমান আর্থিক দুর্দিনের সময়ে তাদের মুখে হাসি ফোঁটানোর প্রয়োজনে মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি বর্ধিত করার লক্ষ্যে ২য় শ্রম আদালত কর্তৃক দেয় আদেশের ধারাবাহিকতায় বিদ্যমান কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরিভিত্তিতে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা।

২০০৮-২০১৮ সময়কালের নির্বাচনের চা কোম্পানীর ম্যানেজমেন্ট, ব্যবস্থাপকরা যাতে ভবিষ্যতে কোন চা বাগানের ওয়ার্কিং এবং শ্রমিক হাজিরা বইয়ে নাম উঠিয়ে ও রাতারাতি প্রভিডেন্ট ফান্ডের সদস্য বানিয়ে ইউনিয়নের কোন নির্বাচনে যাতে কেউ অংশগ্রহণ করতে না পারেন- তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উপর ২০০৬ সাল হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সকল বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।