জামালগঞ্জে খাদ্য গুদামের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়ম

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে উপজেলা খাদ্য গুদামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংরক্ষিত ব্লক দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনি নির্মাণ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, ডর্ক ইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড উপজেলার তিনটি খাদ্য গুদামে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৫৯ হাজার ২৯ টাকায় ড্রয়িং ডিজাইন অনুযায়ী ২৩ নভেম্বর ২০১৯ থেকে ১৫ জুলাই ২০২০ সালে কাজটি সম্পন্ন করার চুক্তিতে টেন্ডারপ্রাপ্ত হয়। ডর্ক ইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড তমা কনস্ট্রাকশন নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সাব লিজ দেয়। তমা কনস্ট্রাকশন উক্ত কাজটি আবার সাবলিজ দেয় ইউ টেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। একই কাজ ইউ টেক পুনরায় ‘ইকুরে কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’কে হস্তান্তর করে। চতুর্থ সাবলিজ নেয়া প্রতিষ্ঠান ‘ইকুরে কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’র ইঞ্জিনিয়ার আবু জাফর খন্দকারের তত্ত্বাবধানে ফোরম্যান হাবিবুর রহমান খাদ্য গুদামে পাউবো’র সংরক্ষিত ব্লক কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে সীমানা প্রাচীরে ব্যবহার করে। বিষয়টি উপজেলার গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের নজরে আসলে তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেবকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. এরশাদ হোসেন ও পাউবো’র উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল কবিরকে নিয়ে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৩০ নভেম্বর সকালে টিম প্রধান ইউনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ৪ সদস্যের তদন্তকারী টিম বিকেলে খাদ্য গুদামের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইকুরে কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষে আবু জাফর খন্দকার ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সিলেটের রক্ষানাবেক্ষণ কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সাহাব উদ্দিনসহ গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে তদন্ত করেন। এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত আবু জাফর খন্দকার বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত পাউবো’র ব্লক ব্যবহার করা ভুল হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য অনুতপ্ত। আঞ্চলিক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান জানান, আমার অনুমতি না নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে ৪ সদস্য বিশিষ্ট টিমকে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছে।