প্রবাসীদের এনআইডি সেবায় ফি নেবে না ইসি

একাত্তর ডেস্ক :: প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকাভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবায় কোনো ধরনের ফি নির্ধারণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রোববার কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রবাসে বাংলাদেশিদের অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর এক বছরের মাথায় এ সিদ্ধান্ত এল।
কমিশন সভা শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করায় কোনো ফি নেওয়া হবে না। বিদ্যমান আইন বিধিতে ফি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
গত বছর নভেম্বরে প্রবাসীদের অনলাইন সেবা শুরু হয়। প্রায় সাড়ে সাতশ’ নাগরিকের আবেদন এলেও এখনও বায়োমেট্রিক সংগ্রহ, ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার কাজই শুরু হয়নি। ইতোমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবায় ‘প্রতীকী’ ফি নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছিল। সব কিছু বিবেচনা করে ও আইন-বিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে ফি নির্ধারণের চিন্তাভাবনা থেকে সরে এল সাংবিধানিক সংস্থাটি। সচিব বলেন, নিবন্ধন হতে কোনো ফি নয়। তবে সংশোধন বা হারানোর ক্ষেত্রে বরাবরের মতো নির্ধারিত ফি দিয়ে করতে হবে।
দেশে নাগরিকদের প্রথমবার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিনা ফিতে বিতরণ করা হয়। তবে হারানো, সংশোধন বা ডুপ্লিকেট এনআইডি সংগ্রহে ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এনআইডি সেবা কার্যক্রম শুরুর পর ইতোমধ্যে চারটি দেশে প্রায় সাড়ে সাতশটি আবেদন পেয়েছে এনআইডি উইং। প্রবাসীদের অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনে জন্য services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনলাইনে ভোটার করার কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পর পরই করোনাভাইরাস মহামারী দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া থেকে ৪৮ জন, সৌদি আরব থেকে ৩৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৩০ জন এবং যুক্তরাজ্য থেকে ১২১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি অনলাইনে ভোটার হতে আবেদন করেছেন। মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবা চালু করা হয়। সবশেষ এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে এ সেবা কাজ উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। এ যুগান্তকারী পদক্ষেপ চালুর পর মহামারী শুরু হওয়ায় দূতাবাসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক নেওয়ার কাজ থমকে যায়। তবে শিগগির তা চালু হবে বলে জানানো হয়েছে। গত ২৫ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস’ দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের এনআইডি সেবা ও স্মার্টকার্ড দেওয়ার কাজও বাস্তবায়ন হবে।
প্রকল্প অনুমোদনের পর এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবার বিষয়ে বলেন, প্রতিবছর অন্তত আটটি দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবার কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। আগামী ৫ বছরে প্রায় ৪০টি দেশে তা চালু সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৮ নভেম্বর জানায়, দেশের নির্বাচন কমিশন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৪০টি দেশে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। কাজেই বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা প্রবাসে অবস্থানকালীন দেশে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।