কুশিয়ারা-বরাক : নৌ বাণিজ্যে হোঁচট

বিশেষ প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। আসামের ব্যবসায়ীরাও ক্ষুব্ধ। কারণ সিলেট রুটে বাংলাদেশের সাথে বহুল আলোচিত নৌপথ বাণিজ্য শুরু না হতেই থমকে গেছে। এর কারণ হিসেবে বরাক ও কুশিয়ারার খননে আসামের নদী খনন বিভাগের দুর্নীতিকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। তাই উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্যবসায়ীরা অনতিবিলম্বে নদী খনন প্রকল্পের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অনেকে বেশ কিছুটা হতাশই হয়েছেন। কারণ বাংলাদেশ থেকে ৫০০ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৫টি পণ্যবাহী জাহাজ নিয়ে তারা ভারত সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। করিমগঞ্জ থেকে চুনাপাথর বোঝাই করে কার্গোগুলো দেশে ফিরবে, এমনই ছিল পরিকল্পনা।
কিন্তু তাদেরকে রওয়ানা দিতে হল মাত্র ১২৫ টন নিয়ে। আসামের ব্যবসায়ীরাই স্বীকার করেন যে, নাব্যতার সংকট বাংলাদেশ অংশে নয়। এর পুরোটাই পড়েছে আসামে। কারণ বদরপুরের পরে কুশিয়ারা বা বরাকের কোথাও নদী ড্রেজিং করার বিষয় ছিল না। আসামের একটি বড় উৎসবের নাম নামামী বরাক উৎসব। ওই উৎসব উপলক্ষে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বনানন্দ সানোয়াল বরাক-কুশিয়ারার নৌপথের পুরোটাতেই যথাযথভাবে খনন সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আসামের ব্যবসায়ী সূত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা জানতে পেরেছেন যে, অতীতে শিলচর থেকে বদরপুর পর্যন্ত খনন ভালোভাবেই শেষ করা হয়েছিল। সে কারণে নাব্যতার কোনো সংকট ছিল না। এমনকি ব্রিটিশ শাসন আমল থেকে ১৯৫০ এর দশক পর্যন্ত সকল মওসুমে নৌপরিবহন চলাচল অব্যাহত ছিল। আসামের উজানে লক্ষ্মীপুরেও নৌযান যেত। আর সেখানে একটি বন্দর ছিল। সেখান থেকে মনিপুর ও ত্রিপুরার ব্যবসায়ীরাও পন্য সরবরাহের সুবিধা নিতে পারতেন।
বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব করিমগঞ্জে তার সর্বশেষ সফরকালে করিমগঞ্জ স্টিমারঘাটকে একটি বন্দর হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়ে আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি তিনি এটাও বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গাদকারীর সঙ্গে তিনি এবিষয়ে কথা বলবেন এবং এটির বাস্তবায়নে সহায়তা দেবেন।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মহল মনে করেন যে, নদী খননের পরে আমদানি এবং রপ্তানিতে গতি আসবে। উভয় দেশের মধ্যে নৌ পথে বানিজ্য সারাবছর ধরে চলমান থাকবে। কিন্তু শুরুতেই এই সার্ভিস মুখ থুবড়ে পড়ল। আসামের ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ বিভাগের একশ্রেণীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও ব্যবসায়ীদের অনেকের আশঙ্কা।
গত অক্টোবরেও খবর ছিল যে, আসামের পানি সম্পদ বিভাগ দুবছরের বেশি সময় ধরে চেষ্টা করেও ১৮ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ড্রেজার সংগ্রহ করতে পারেনি। তার কারণ ছিল ড্রেজার সরবরাহকারী কোম্পানি অগ্রিম ১৩ কোটি টাকা শোধ করার শর্ত দিয়েছিল। কিন্তু সেটা মানতে পারেনি পানি সম্পদ বিভাগ। এধরণের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বাংলাদেশ–ভারত নৌরুটে বানিজ্যের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সিলেটের অনেক প্রবীণ ব্যক্তি স্মরণ করেন যে, ১৮৩৫ সালে ব্রিটিশরা ভারতেরি বিভিন্ন এলাকা থেকে চা শ্রমিকদের আসামে আনেন। এবং আসামে চা উৎপাদন শুরু করেন। দিগবই নামক এলাকায় বসেছিল এশিয়ার প্রথম তেল শোধনাগার। সেইসময় থেকে পরের এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে আসামের উন্নয়নে নৌরুট বিরাট ভূমিকা রেখেছে।