উপশহরে নীরব সন্ত্রাস: মামলা অসংখ্য, দুটির বর্ণনা

অপকর্মের ফিরিস্তি আসছে


স্টাফ রিপোর্ট :: একটি মামলা। ২১ জন আসামি। মামলার বাদি এক জন নারী। আসামিদের নাম ক্রমানুসারে বর্ণনার পর বাদি উল্লেখ করেন, আসামীগণ অত্যন্ত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক সেবনকারী, ও মাদক ব্যবসায়ী এক দলবদ্ধ চক্র বটে। ধনে জনে বলীয়ান সন্ত্রাসী মারমুখী আসামীগণ প্রতিনিয়ত চাঁদাবাদি করিয়া আসিতেছে। আসামীগণের দাপুটে কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এলাকার কোনো কেহ কোন প্রতিবাদ করিবার সাহস পায় না। এলাকার এমন কোনো অপরাধ নেই যাহা আসামীগণ করেনি।’ মামলার এজাহারে বাদির হুবহু ভাষ্য, ‘১-৮ নং আসামীগণ সকল আসামীগণ ও অজ্ঞাতনানা আসামীগণের গডফাদার চক্র বটে। ১-৮ নং আসামীগণ নিজেরা স্বশরীরে উপস্থিত উপস্থিত হইয়া ও ৯-২১ নং আসামীগণকে সাথে নিয়া ক্রমাগত একের পর এক চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসা, খুন, গুম, অপহরণ করিয়া এলাকায় এক নারকীয় পরিবেশ তৈরি করিয়াছে।’ মামলার বাদি মার্জিয়া বেগম রুমা সিলেট নগরীর উপশহরস্থ ‘ওয়ান টু হান্ড্রেড’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।
সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের দায়ের হওয়া মামলা (নং : ১৫২) মামলার আসামিরা হলেন, নগরীর শাহজালাল উপশহরের ই ব্লকের ৬ নং রোডের ২০২ নং বাসার মৌলভী রফিকের ছেলে শামীম, বি ব্লকের ১৯ নং রোডের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে সালেহ আহমদ সেলিম, ই ব্লকের ১ নং রোডের ৩ নং বাসার মৃত সৈয়দ আব্দুল বারীর ছেলে সৈয়দ মুহিবুর রহমান মিছলু, জনৈক গিয়াস উদ্দিন, ই ব্লকের ৬ নং রোডের ১০২ নং বাসার কবির মিয়ার ছেলে কাজী জুবায়ের হোসেন, এ ব্লকের ১০ নং রোডের ১০ নং বাসার মাসুকুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন রশীদ সুমন, ই ব্লকের মেইন রোডের নাছির উদ্দিনের ছেলে ফজলুর রহমান, সৈদনীবাগের উন্মেষ ২০ নং বাসার মৃত মুহিবুর রহমান শরীফের ছেলে ছেলে নাহিদুর রহমান সাব্বির, ই ব্লকের ১ নং রোডের ৩ নং বাসার মৃত শাহজাহানের ছেলে সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম, জি ব্লকের ৪ নং রোডের ৯৫ নং বাসার মৃত মৌলভী ওয়াজিদ আলীর ছেলে শামসুল হক, ই ব্লকের ১ নং রোডের খোদেজা ভবনের আব্দুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান, ই ব্লকের ২ নং রোডের ৩৮ নং বাসার মৃত আরজু মিয়ার ছেলে আমিন, সৈদনীবাগের কয়ের মাস্টারের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন, টিলাগড়ের জনৈক সাইফুর, এ ব্লকের জনৈক জোসেফ, টিলাগড়ের জনৈক রাহাতুল আমিন, টিলাগড়ের জনৈক মিজানুর রহমান মাহাদি, টিলাগড়ের জনৈক সিরাজী, টিলাগড়ের জনৈক রনি, টিলাগড়ের জনৈক অর্ঘ।
মামলার এজাহারের ভাষ্য অনুসারে, বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে আসামিরা মামলার বাদি মার্জিয়া বেগমের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা মার্জিয়া বেগমের ছেলে কলেজছাত্র তাহমিদ আহমদ চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দেয়। ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল তাহমিদকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে জোর করে নগরীর টিলাগড়ের এমসি কলেজের সামনে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। তার সাথে থাকা ১০ হাজার টাকা ও দেড় ভড়ি ওজনের স্বর্ণের চেইন কেড়ে নেয়। গুরুতর আহত তাহমিদ ১২ দিন সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৭ মে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মার্জিয়া বেগমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় আসামীরা।
আরো একটি মামলা। এ মামলাটি দায়ের হয় সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে। বাদি শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা জাহের আহমদ। মামলার ভাষ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর জাহের আহমদের খালাতো ভাই জাকারিয়া মাহমুদের সোনারপাড়াস্থ নবারুণ ৪৪১ নং বাসায় অনধিকার প্রবেশ করিয়া তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে আসামীরা। এ সময় তাকে না পেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারপিট থাকে। এ সময় তারা ৩ লাখ টাকার স্বর্ণালকার নগদ আড়াই লাখ টাকা লুট করে নেয়।
মামলার আসামিরা হলেন, নগরীর শাহজালাল উপশহরের এইচ ব্লকের ৪ নং রোডের বাসিন্দা মৃত মাসুকুর রহমানের ছেলে এই.আর সুমন (৩১), এ ব্লকের ৪ নং রোডের শিব্বির আহমদের ছেলে নাবিল আহমদ (২৩), এবিসি পয়েন্টের মৃত নিরঞ্জন কুমার দাসের ছেলে চঞ্চল কুমার দাস (৩০), ই ব্লকের ৬ নং রোডের ২০২ নং বাসার কবির মিয়ার ছেলে কাজী জোবায়ের আহমদ (২৬), সৈদনীবাগের উন্মেষ-২৬ নং বাসার আবদুস সালামের ছেলে আকবর হোসেন (২৩), এ ব্লকের ৯ নং রোডের ৯ নং বাসার ফুরকান মাস্টারের ছেলে সুলতান শাহজাহান তুহিন (২৭), এফ ব্লকের ৪ নং রোডের কামাল উদ্দিন, এ ব্লকের ৬ নং রোডের আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে কাওছার আহমদ, ই ব্লকের ৬ নং রোডের ২০২ নং বাসার সিরাজ আহমদ খানের ছেলে মোশাহিদ আহমদ খান, ই ব্লকের ৫ নং রোডের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, এ ব্লকের ৯ নং রোডের ৯ নং বাসার মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে সালেহ আহমদ, এফ ব্লকের ৩ নং রোডের জাহির উদ্দিন, জনৈক কুনু মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়া, এ ব্লকের মেইন রোডের আতাউর রহমানের ছেলে রুহুল আমিন, এ ব্লকের মেইন রোডের আইনুল হকের ছেলে এহিয়া আলম মুন্না, তেররতনের হাসিম মিয়ার ছেলে আরজু আহমদ, এবিসি পয়েন্টের যতীন্ত্র বৌদ্ধের ছেলে শিপন, তেররতনের মৃত ফজর আলীর ছেলে মিন্নত আলী, তেররতনের রুবেল আহমদ ওরফে ভাগ্না রুবেল, জনৈক কুনু মিয়ার ছেলে নাজিম মিয়া, জনৈক আঙ্গুর মিয়ার ছেলে রায়হান আহমদ, শিবগঞ্জের সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, তেররতনের বশির মিয়ার ছেলে নিয়াজ আহমদ, সাদারপাড়ার আল আমিন ওরফে সিএনজি আল আমিন, পূর্ব শাপলাবাগের নাজিম উদ্দিনের ছেলে আরমান, তেররতনের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে সালাম ওরফে দালাল সালাম, গার্ডেন টাওয়ারের ৪০৮৬ নং ফ্ল্যাটের বাসিন্দা অহি চৌধুরীর ছেলে রায়হান চৌধুরী, মিরাবাজারের ২১ উদ্দীপন বাসার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম রাব্বি, দক্ষিণ সুরমার কদমতলী ১৫৬ স্বর্ণশিখার বাসিন্দা মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আলম কুদ্দুস।
মামলায় বর্ণনা দেওয়া হয়েছে আসামিরা গুলি করে বাসার থাই গ্লাস ভেঙে ফেলে। এরপর পেট্রোল বোমা ছুড়ে বাসার ভেতরে অগ্নিসংযোগ করে। এ হামলার নেপথ্য কারণ হচ্ছে জাকারিয়া মাহমুদের বড় ভাই জাফর সাদিক একই আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে শাহপরান থানায় একটি মামলা (নং : ১৫১) দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার জবাব দিতেই হামলার ঘটনা