‘নতুন নকশায় বেড়িবাঁধ না হলে বিপর্যয় নেমে আসবে’

স্টাফ রিপোর্ট :: সুনামগঞ্জের ছাতক দোলারবাজার ইউনিয়নে ‘জাহিরভাঙ্গা-বসন্তপুর বেড়িবাঁধ উপপ্রকল্প’র বাস্তবায়িত হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে আবেদন নিবেদন করলেও তারা পাত্তাই দিচ্ছেন না। বরং গুটিকয় প্রভাবশালীর স্বার্থ হাসিলে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন দোলারবাজার ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের প্রতিনিধিবৃন্দ। শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাদিকু রহমান সাদিক। তিনি বলেন, জাইকার অর্থায়নে ‘জাহিরভাঙ্গা-বসন্তপুর বেড়িবাঁধ উপপ্রকল্প’র বর্তমান নকশায় বাস্তবায়ন হলে ১৬টি গ্রামের বাসিন্দারা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বেন। হাজার হাজার মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হবে। মাত্র ২ পরিবারের সদস্যদ্বারা গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ ব্যাপারে জাহিরভাঙ্গা বসন্তপুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নামে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাও নিয়ম বহির্ভূত প্রক্রিয়ায় হয়েছে। উপজেলা সমবায় কর্মকতা আর্থিক সুবিধা পেয়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের মতামত উপেক্ষা করেছেন। ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল খয়ের, একই গ্রামের রফিক উদ্দিন ও ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছালিক মিয়া চৌধুরী নিজেদের স্বজনদের দিয়ে কমিটি গঠন করে স্বার্থ হাসিল করছেন।

তিনি বলেন, আমরা গত অক্টোবরে প্রকল্পের জানি। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রকল্পে সদস্য অন্তরভূর্ক্তির জন্য নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সভা আহবান করলেও বর্তমান কমিটির দুর্নীতিপরায়ন প্রভাবশালীরা পুলিশকে প্রভাবিত করে সভা করতে দেয়নি। পরে স্থানীয় বন্তপুর গ্রামে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আবুল খয়ের ও ছালিক মিয়া চৌধুরী উপস্থিত না হয়ে কাজ যান। প্রকল্পের শুরুতে তালুপাঠ, নরসিংহপুর, যোগলনগর, কচুরকান্দি গ্রামস প্রকল্পের আওতাধীন থাকলেও পরে তা বাদ দেয়া হয়। তাছাড়া কমিটিতে জমির প্রকৃত মালিক, কৃষক, বা মৎস্যজীবীরা স্থান পাননি। তিনি বলেন, প্রকল্পে বিভিন্ন খাতের প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়েছে । এই নকশা বাতিল করে আনুজানি, বরাটুকা, দক্ষিণ বরাটুকা, রোকনতাজ, মেওয়াতৈল গ্রামগুলোকে আওতায়ভুক্তির দাবি জানাই আমরা। নইলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিজমি ও মৎস্য অভায়াশ্রম ধ্বংস হবে। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তালুপাঠ, নরসিংহপুর, যুগলনগর, বুরাইয়া, খাগহাটা গ্রামের কৃষিজমি ও মৎস্য আহরণের খালবিল।

ইউপি সদস্যরা লাভবান হতে নিজেদের পরিবারের লোকজন দিয়ে কমিটি করেছেন। আবুল খয়ের মেম্বার দ্বারা যে সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে এর সাধারণ সম্পাদক তার আপন ভাই সুজন মিয়া, বুশরা বেগম সুজনের স্ত্রী, সহ-সভাপতি শিল্পী বেগম তার আশ্রিতা, ছামির উদ্দিন মামা, সভাপতি রফিক উদ্দিন তার উকিল বাবা, সালমা খানম চাচী, গোলজার আহমদ ভাতিজা, মো. রমজান আলী চাচাতো ভাই, রহিম উদ্দিন সভাপতি রফিক উদ্দিনের ভাতিজা, মিনা বেগম রফিক উদ্দিনের বোন, ফখর উদ্দিন ভাই। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার অভিযোগ করলেও কেউ গুরুত্ত¡ই দিচ্ছেন না। এমনকি এ ব্যাপার ঢাকায় গিয়ে প্রকল্পের পরিচালকের কাছে আবেদন নিবেদন করলে, তিনি মন্ত্রী-এমপিদেরও পাত্তা দেন না বলে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন। জানিনা রাষ্ট্রের কাছে আমাদের কি অপরাধ? নইলে হাজার হাজার মানুষ যখন প্রকল্পের সংশোধন চাইছেন তখন ২/৩টি প্রভাবশালী পরিবারের কয়েকজন মানুষের পছন্দের কাছে হারতে যাচ্ছি কেন? ২২ নভেম্বর প্রকল্প বাস্তবায়নে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। জাইকার প্রতিনিধিরা আমাদের অভিযোগকে উপেক্ষা করে চুক্তি সম্পাদন করেছেন। এতে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের আগুন জ¦লছে। যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তিনি ১৬টি গ্রামের মানুষের সুযোগ-সুবিধা ও দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন নকশা তৈরি করে নতুন প্রকল্প শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মো. ধন মিয়া, আজমান আলী, ইন্তাজ আলী, আব্দুর রহমান, নুর বক্স, লুতফুর রহমান, মাহবুবুল আলম মুহিত, সুলতান খান, নুরুল আলম, জামাল উদ্দিন, ওলিউর রহমান, মাসুদ আহমদ, খলিল আহমদ, আবুল কালাম, আ. রউফ, সুন্দর আলী প্রমুখ।