আরও ৩৬ জনের মৃত্যু

একাত্তর ডেস্ক :: দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৯০৮ জন। শনিবার বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১ হাজার ৯০৮ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬১৯ জন হল। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৩৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮০ জনে দাঁড়াল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ২০৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৮৫ জন হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৮ টি ল্যাবে ১৪ হাজার ৬৪৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৯২টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৮ জন, নারী ৮ জন। তাদের প্রত্যেকেই হাসপাতালে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ১০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, এক জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, এক জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং এক জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিলো। মৃতদের মধ্যে ৩০ জন ঢাকা বিভাগের, ৩ জন খুলনা বিভাগের, একজন করে মোট দুজন বরিশাল ও রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৬ হাজার ৫৮০ জনের মধ্যে ৫ হাজার ৫২ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৮০ জন নারী। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৯২ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও, ১ হাজার ৭২০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭৯৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৪২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৪৭ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৫৩ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩১ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫১৭ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ২৫৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪০১ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৯৫ জন খুলনা বিভাগের, ২১৯ জন বরিশাল বিভাগের, ২৬৪ জন সিলেট বিভাগের, ২৯৮ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৩২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যক শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনে সর্বাধিক মৃত্যু। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২৫তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৩তম অবস্থানে।