হোয়াইট হাউস ছাড়বেন তবে….

হেলাল উদ্দীন রানা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন,ইলেক্টোরাল ভোটে বাইডেন বিজয়ী হলে তিনি হোয়াইট হাউস ছেড়ে চলে যাবেন। গতকাল ট্রাম্প একথা বললেও তিনি আবারও পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার থ্যাংক্স গিভিং উপলক্ষে হোয়াইট হাউস আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউএস মিলিটারির সাথে ভিডিও কনফারেন্সে থ্যাংক্স গিভিংয়ের শুভেচ্ছা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অনুষ্ঠান শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনে তার পরাজয়ের পর প্রথম সাংবাদিকের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন।তিনি বলেন বাইডেনের কাছে পরাজয় মেনে নেয়া তার জন্য খুব কঠিন কাজ।
ট্রাম্প এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইলেক্টোরাল কলেজ বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করলে তিনি হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাবেন। তবে এমনটা করলে তারা ভুল করবে। তিনি
বাইডেনের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না
থাকারও ইঙ্গিত দেন।
আগামী ২০ জানুয়ারি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেনের যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার কথা রয়েছে। এই দিনই নতুন প্রেসিডেন্টের সপরিবারে হোয়াইট হাউসে উঠার কথা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও একের পর এক টুইট করে চলেছেন নির্বাচনে জয়লাভের মিথ্যা দাবি নিয়ে। বলছেন, এই জালিয়াতির নির্বাচন তিনি মানবেন না। তার ভাষায় ভোটের জালিয়াতির ব্যাপারে তার রিপাবলিকান পার্টি ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যে তাদের নিজেদের আয়োজনে শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে।
গতকাল পেনসেলভেনিয়ার ঐতিহাসিক গেটিসবার্গ
শহরে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় আইন প্রণেতারা শুনানিতে অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন এমনটা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজে অংশ নেননি। তবে তাঁর আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি এতে অংশগ্রহণ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য স্পিকারের মাধ্যমে উপস্থিত সকলকে শুনানো হয়। এসময় অনুষ্ঠান স্থলের বাইরে ট্রাম্পের কিছু সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। আগামীতে মিশিগানে
এরকম আরেকটি শুনানির আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে। এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে, গতকাল পেনসেলভেনিয়ার একজন বিচারক রাজ্যের ভোট সার্টিফিকেশনের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ট্রাম্প শিবিরের আবেদনের প্রেক্ষিতে। যদিও রাজ্যের ভোটের সার্টিফিকেশন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জোসে শাপিরো জানিয়েছেন, বিচারকের এমন আদেশে নির্বাচনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বেনা।অবশ্য ইতিমধ্যে এ আদেশের বিরুদ্ধে রাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই একের পর এক স্ববিরোধী টুইট ও পরাজয় না মেনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার একটি কৌশল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যাতে করে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও তাঁর ট্রাম্প ইজমকে জিইয়ে রাখা যায় এবং তার নিজের রিপাবলিকান পার্টির উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। এতে করে আগামী দিনে তিনি নিজে বা পরিবারের যে কোনো সদস্যকে ইচ্ছে মতো রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসতে পারেন।
ইতিমধ্যে রিপাবলিকান পার্টির একপক্ষ এবিষয়ে সর্তক হয়ে উঠলেও বাকিরা এখন নীরবতা পালন করছেন।কেউ কেউ তাকে বিগড়ে দিয়ে তার ভোট ব্যাংক হারাতে চান না। আবার অনেক রিপাবলিকান নেতার এমন ভয়ও রয়েছে তার বিপক্ষে গেলে তিনি যে কোনোভাবে বেকায়দায় ফেলতে পারেন। তবে যারা কোন কিছুর তোয়াক্কা বা তার তোষামোদি না করে প্রকাশ্যে তাঁর অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করছেন তাদের পিছনেও নীরব সমর্থন রয়েছে।
ট্রাম্পের ক্যাম্পেইনের অনেকেই ইতিমধ্যে তাকে ছেড়ে
চলে গেছেন। এদের অনেক নতুন করে আবার কাজ
খুঁজতে শুরু করেছেন। হোয়াইট হাউসেও বেজে উঠেছে বিদায়ের সুর। কর্মকর্তা কর্মচারীরা এখন সবকিছু গুছানোয় ব্যস্ত।
অপরদিকে, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেন তার প্রশাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জোরেসোরে। হোয়াইট হাউসের দখল নিতে তার টিম এখন দিনরাত বিরামহীন কাজ করছে। বাইডেন তার মন্ত্রিপরিষদ গঠন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার জরুরি করণীয় নিয়ে নীতি নির্ধারকদের সাথে
শলা পরামর্শ করে চলেছন। সেই সাথে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ রুদ্ধশ্বাসেঅপেক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্রে শেষ পর্যন্ত কি হয় তা
দেখতে।