শায়েস্তাগঞ্জে লিজের শর্ত ভঙ্গ, রেলের জায়গায় বহুতল ভবন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা সদরে রেলওয়ের জায়গায় লীজের শর্ত ভঙ্গ করে বহুতল স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষে নাকের ডগায় বহুতল ভবন দেখে সচেতন সমাজ নির্বিকার।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদরের অর্থাৎ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের স্টেশন রোডে ডাকবাংলোর বিপরীতে ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়া, বিকাল পালসহ আরও কয়েকজন রেলওয়ের লিজ গ্রহন করে শর্ত ভঙ্গ করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। তবুও পৌরসভা থেকে নেওয়া হয়নি কোন অনুমোদন।
সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে কতিপয় কর্মকর্তার সাথে আতাত করেই গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন। শুধু ভবন নির্মাণই নয়, একজনের নামে লিজ নিয়ে নিয়ম বহিভূর্তভাবে বেশি টাকার বিনিময়ে হাত বদল করা হচ্ছে মালিকানাও।
জানা যায়, রেলের এই জায়গাটি তাউছ মিয়া ও তাজুল ইসলামের নামে ইজারা নেওয়া হলেও এখন সেটির মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে টাকার বিনিময়ে। স¤প্রতি চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে একতলা ভবনের কাজ সম্পন্ন করেন তারা। এরপর দ্বিতীয় তলা ভবনের কাজ শুরু করলে সকলের নজরে আসে।
রেলওয়ে সূত্র মতে, রেলের জায়গা কেউ লিজ নিলেও স্থায়ী পাকা ভবন করতে পারবে না। অস্থায়ী ঘর করে বসবাস করতে পারবেন, তবে রেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় তাকে সরিয়ে দিতে পারবেন।
ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়া বলেন, সবাই রেলের জায়গায় বহুতল ভবন করেছে। তাই আমিও করছি। এছাড়া রেলের লোকজন বিষয়টা দেখে গেছে। তারা ভবন নির্মাণে বাঁধা দেয়নি। তাই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশনের উপসহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. আশিকুর রহমান বলেন, রেলওয়ের ভূমিতে পাকা দালান নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. ছালেক মিয়া বলেন, রেলওয়ে ভুমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করার বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন অনুমোতি দেওয়া হয়নি। এবিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করার সুযোগ থাকলে তা গ্রহন করা হবে।