রায়হান হত্যা : আরও ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্ট :: সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যার মামলায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানার আরও তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরা হলেন- ঘটনার দিন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) সৌমেন মৈত্র ও রায়হান হত্যা মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আব্দুল বাতেন ভূঁইয়া এবং ঘটনার রাতে বন্দর ফাঁড়িতে দায়িত্বরত এএসআই কুতুব আলী।
আকবর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নতুন করে এই তিনজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে এসএমপি সূত্রে জানা গেছে। বরখাস্তকৃতদের মধ্যে ইন্সপেক্টর সৌমেনকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করে ক্লোজ করা হয়েছে। এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এবিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বুধবার বিকেলে জানান, গত ১৮ নভেম্বর এই দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এর আগে রায়হান হত্যাকাণ্ডে বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।
গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাস্টঘর থেকে আটক করে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদি হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় এসএমপির একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে সত্যতা পায়। এর পর দিন ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়। তখন গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন পরই আকবর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যান। পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দেয়ার ২৬ দিন পর সোমবার আকবরকে সিলেট জেলা পুলিশের একটি দল কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় খাসিয়াদের হাতে আটক হন আকবর। আকবরকে গ্রেপ্তারের পরদিন পরদিন ১০ নভেম্বর তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় এই মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হলেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এরপর আকবরকে কারাগারে পাঠান আদালত। এর আগে এই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য এএসআই আশেক এলাহি, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং হারুনুর রশীদকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড নেয় পিবিআই। তবে রিমান্ড শেষে তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।