পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে জাফলংয়ে বিশাল জনসভা

একাত্তর ডেস্ক :: সিলেটে বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারী ব্যবসায়ী শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জাফলং মামারবাজার পিউলি মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে ও শাব্বির আহমদ ফয়েজ এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক, পিকআপ ও কাভর্ডভ্যান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের ইউনিয়নের সভাপতি শ্রী আবু সরকার। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারী ব্যবসায়ী শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো. নুরুল আমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক, সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি মো. আবদাল মিয়া, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটো রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি মো. রুনু মিয়া, সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আমির উদ্দিন, সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যকরি সভাপতি মো. আব্দুস সালাম, কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শাব্বির আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা আঙ্গুর মিয়া, সাংবাদিক মইন উদ্দিন মিলন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক শওকত আলী বাবুল, ধোপাগুল স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সহ সভাপতি সৈয়দ সালেহ আহমদ শাহনাজ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম, কোষাধক্ষ নজরুল শিকদার, জাফলং আওয়ামী লীগের আহবায়ক মিনহাজুর রহমান, জাফলং আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শাহ জাহান সিরাজ, মুজাম্মিল হোসেন মেনন, ইব্রহিম মেম্বার, আতাউর রহমান আতাই মেম্বার, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মাসুক আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ গোলাম সারোয়ার, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক কামাল হোসেন, যুবলীগ নেতা শেরগুল ঘুষাই, রুবেল আহমেদ, রাজিব আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা ইউসুফ আহমদ, সাব্বির রহমান সাজন।
জনসভায় বক্তারা বলেন, একটি বৃহৎ অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাচীন জীবিকার পন্থা বন্ধ হওয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় প্রান্তিক লাখো মানুষের জীবিকা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পাথর বিপননের সাথে সম্পৃক্ত ১০ সহ¯্রাধিক ব্যবসায়ী ঋণ খেলাপী হয়ে দেনা শোধ করতে না পেরে পলাতক জীবন যাপন করছেন। পাথর পরিবহনে সম্পৃক্ত হাজার হাজার ট্রাক ও ট্রাক্টর মালিক, শ্রমিক রোজগার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পাথরকে উপজীব্য করে গড়ে ওঠা স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজার ও বিপনী কেন্দ্রগুলোতে পন্য কেনা বেচা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যেক্তা কঠিন ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। নিজ দেশে উন্নতমানের পাথর রেখে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় করে পাথর আমদানীর মাধ্যমে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে ইটের খোয়া, যার ফলে আশংকা দেখা দিয়েছে দুর্ঘটনার। এমতাবস্থায় সিলেটের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা এবং এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থে ও দেশের নির্মাণশিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থে এখানকার পাথর কোয়ারী সমূহে পরিবেশ সম্মত ভাবে পাথর আহরনের সুযোগ প্রদান জরুরী।
সভায় সিলেটের ১০ লক্ষাধিক পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারী ও তাদের পরিজনদের বাঁচাতে অবিলম্বে পাথর আহরণের সুযোগ প্রদানের দাবি জানান বক্তারা। ন্যায্য এ দাবি আদায়ের স্বার্থে প্রয়োজনে সিলেটে অবরোধ-ধর্মঘটের মত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সভায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। জনসভায় আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কোয়ারী সচলের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান এবং ৩০ নভেম্বর সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মানবন্ধনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।