তদন্ত কর্মকর্তাসহ দুই পুলিশ বরখাস্ত

একাত্তর ডেস্ক :: সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু হওয়া রায়হান আহমেদ মামলায় অন্যভাবে সম্পৃক্ত আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন। রায়হান হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াকে দেশ থেকে পালাতে সহযোগিতা জন্য কোতোয়ালি থানার এ দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র ও রায়হান হত্যা মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন।
বুধবার সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের গণমাধ্যমকে জানান, অনেক আগেই এ দুই্জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। আককবরকে পালাতে কারা সহযোগিতা করেছেন তাদের খোঁজে বের করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে গত ১৮ নভেম্বর এই দুজনকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।


এরআগে একই অভিযোগে বন্দরবাজার ফাঁড়ির এসআই হাসানকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছিলো। এছাড়াও এই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য এএসআই আশেক এলাহি, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং হারুনুর রশীদকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড নেয় পিবিআই। তবে রিমান্ড শেষে তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমলক জবানবন্দি দেননি।


১১ অক্টোবর সকালে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর আখালিয়া বাসিন্দা রায়হান আহমদকে। সেখানেই সে মৃত্যুবরণ করে। এরপর অভিযোগ উঠে, বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এদিন রাতেই পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তামান্না আক্তার।


পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে নির্যাতনের সত্যতা পায়। এই ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁঞাসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান বন্দরবাজার থানার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা আকবর হোসেন ভূইয়া।


৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আকবর হোসেন ভূইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতে পালানোর সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে। যদিও সীমান্তবর্তী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আকবরকে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তের ওপারে খাসিয়া পল্লির বাসিন্দারা আটক করে বাংলাদেশে পাঠালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আকবর পালানোর পর থেকেই তাকে পালাতে কারা সহযোগিতা করেছেন তাদের চিহ্নিত করার দাবি ওঠে। ধরা পরার পর আকবরও জনতার কাছে বলেছেন, দুই সিনিয়র কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের পর আকবরকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। রিমান্ড শেষে ১৭ নভেম্বর আকবরকে আদালতে হাজির করা হলেও তিনি স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেননি।