কেমুসাস নির্বাচন : গোড়ায় গলদ

স্টাফ রিপোর্ট :: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের (কেমুসাস) ২০২১-২০২২ সালের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন আগামী ২৬ ডিসেম্বর। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় নির্ধারণ করেছিলেন কেমুসাস নির্বাচন কমিশন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসেও মনোনয়নপত্র কিনতে পারেননি এক প্রার্থী। আক্ষেপের সুরে তিনি অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিনের দিকে।
জানা গেছে, মনোনয়নপত্র কিনতে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরীর দরগাহ গেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে আসেন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আতিকুর রব চৌধুরী জুয়েল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট আগে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মনোনয়নপত্র বিক্রির পাট চুকিয়ে কেমুসাস থেকে চলে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন। ওই সময়ের মধ্যে মাত্র একটি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়। আতিকুর রব চৌধুরী অ্যাডভোকেট নিজামকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে নির্বাচন কমিশনের সদস্য, সিলেট চেম্বাররের সভাপতি আবু তাহের মোহাম্মদ শোয়েবের সাথে যোগাযোগ করেন জুয়েল। তিনি জুয়েলকে আশ^াস দিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন এবং অ্যাডভোকেট নিজামের সাথে যোগাযোগ করবেন বলেও জানান। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা পেরিয়ে গেলেও অ্যাডভোকেট নিজাম কিংবা এটিএম শোয়েব কেউই আর বেমুসাস কার্যালয়ে ফেরত আসেননি এবং আতিকুর রব চৌধুরী জুয়েলের সাথেও আর যোগাযোগ করেননি। আজ বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মনোনয়ন কিনতে না পেরে রীতিমত হতাশ হয়েছেন আতিকুর রব চৌধুরী।
সৈয়দ আতিকুর রব চৌধুরী জুয়েল কেমুসাসের প্রতিষ্ঠাতা, জমিদাতা এবং ১৯৩৬ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সরেকওম এ জেড আব্দুল্লাহ’র নাতি। তার ফুপা ভাষাসৈনিক মুহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৯৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আক্ষেপের সুরে জুয়েল বলেন, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাথে আমার পারিবারিক অনূভূতি জড়িত আছে। আমার নানাবাড়ি থেকেই কেমুসাসের সূচনা হয়। আমি গতবারও কেমুসাস নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। এবারেও একই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগে ফরম বিক্রি বন্ধ করা এবং পধান নির্বাচন কমিশনারের চলে যাওয়াই এর প্রমাণ। তারা প্যানেল পদ্ধতিতে মাত্র একটি ফরম বিক্রি করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইচ্ছে করেই আমার সাথে এরকমটা করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি। আমি এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছি। আমি এবারে কেমুসাস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারব কি না জানিনা। সংশ্লিষ্টদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমাকে যেনো মনোনয়ন কেনার এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।