আরও ৩৯ জনের মৃত্যু

একাত্তর ডেস্ক :: দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৫৬ জন। বুধবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২ হাজার ১৫৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৬ জন হল। আর এ সময়ে মারা যাওয়া ৩৯ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮৭ জনে দাঁড়াল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৩০২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন একই সময়ে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৯ জন হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ, ২৪ নভেম্বর তা সাড়ে ৪ লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৪ নভেম্বর তা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২৫তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৩তম অবস্থানে। বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সোয়া ৫ কোটি ৯৮ লাখ পেরিয়েছে; মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৪ লাখ ১০ হাজার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৭টি ল্যাবে ১৬ হাজার ১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ১৫০টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতা হার ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ আর নারী ১২ জন। তাদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২২ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং ৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ২৬ জন ঢাকা বিভাগের, ৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ২ জন করে মোট ৪ জন খুলনা ও রংপুর বিভাগের এবং ১ জন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৬ হাজার ৪৮৭ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৯৮২ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৫০৫ জন নারী। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৩৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও ১ হাজার ৬৯৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭৯১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৪০ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৪৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৫১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩১ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৮ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ২৪৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩৯৭ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৯০ জন খুলনা বিভাগের, ২১৫ জন বরিশাল বিভাগের, ২৬৪ জন সিলেট বিভাগের, ২৯৪ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৩২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।