যুক্তরাষ্ট্রের ডায়রি : ব্যর্থ হচ্ছে ট্রাম্পের কৌশল

হেলাল উদ্দীন রানা :: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রশ্নে জটিলতা কাটেনি। ‘হার না মানা’ ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ব্যাটেলগ্রাউন্ড’ রাজ্য জর্জিয়া, মিশিগান, আরিজোনায় প্রায় সকল নির্বাচনী মামলা হারার পর শনিবার পেনসেলভেনিয়ার মামলায়ও পরাজয় বরণ করেছেন। পেনসেলভেনিয়ার আদালত প্রমাণের অভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দায়ের করা মামলা ডিসমিস করে দেন। ট্রাম্প ক্যাম্পেইন এই রায়ের বিরুদ্ধে সার্কিট কোর্টে আপিল করেছেন।

রিপাবলিকান পার্টির অনেক জাতীয় পর্যায়ের নেতা বাইডেনকে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফলাফল মেনে নেয়ার আহবান জানালেও দলের বেশিরভাগ নেতা এখনও রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করে চলেছন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অসহযোগিতা সত্তে¡ও নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার ট্র্যানজিশন টিম নিয়ে আগামী প্রসাশনকে গোছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ট্র্যানজিশন টিমকে নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ট্রাম্প প্রসাশনের বর্তমান ও সাবেক অনেক কর্মকর্তা নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছেন জাতীয় স্বার্থে।

আজ বাইডেন তার মন্ত্রীসভার নাম ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার লিগ্যাল টিমের অন্যতম সদস্য আইনজীবী সিডনি পাওয়েলকে বাদ দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে ট্রাম্পের প্রধান আইনজীবী রুডি জুলিয়ানির সাথে মতানৈক্যের কারণে পাওয়েলকে ছাঁটাই করা হয়েছে। জর্জিয়ার দুইবার ভোট গণনা করার পর শুক্রবার সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করে ভোটের সার্টিফিকেশন ইস্যু করা হয়েছে। এরপরও ট্রাম্প ক্যাম্পেইন কেবল সময় ক্ষেপণ করতে তৃতীয় বার জর্জিয়ায় পুনর্গণনা করার আবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে, মিশিগান রাজ্যে ভোটের সার্টিফিকেশন নিয়ে জটিলতার নিরসন হয়নি এখনও। মিশিগান রাজ্যে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানীয় আইন সভার প্রভাবশালী সদস্যদের হোয়াইট হাউসে ডেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজ্যের ভোটের ফলাফল সত্যায়ন করতে চাপ সৃষ্টির পর রিপাবলিকান কেন্দ্র এবং রাজ্যও একই পন্থা অনুসরণ করার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। তবে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার মানুষের ভোটকে অস্বীকার করে সার্টিফিকেশন বিলম্ব বা রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের পক্ষে সার্টিফিকেশন প্রদান কোনোটাই সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কেননা মিশিগানে বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। রাজ্যের আইন অনুযায়ী বাইডেনের পক্ষেই সার্টিফিকেশন প্রদান করতে হবে।

উল্লেখ্য, সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই বাইডেন রাজ্যের ১৬টি ইলেক্টোরাল ভোটের অধিকারী হবেন। অন্যদিকে, ৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে উইসকনসিন রাজ্যে ২টি কাউন্টির ভোট ট্রাম্প ক্যাম্পেইন পুনর্গণনা করছে কেবল যদি কোনো প্রকারের ত্রুটি বিচ্যুতি মেলে। এই ত্রুটি বিচ্যুতিকে কোর্টে নিয়ে গিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত¡কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য।

রিপাবলিকান পার্টির বিবেকবান নেতৃত্ব পরাজয় মেনে নিতে ট্রাম্পকে চাপ দিলেও তিনি তা কানে তুলছেন না। তবে রিপাবলিকান দলের ভেতরে ট্রাম্পবিরোধী শিবিরের ক্রমেই বড় হচ্ছে। তারা এখনও প্রকাশ্যে না এলেও খুব ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। বাইডেন তার দীর্ঘদিনের পরীক্ষীত যুদ্ধফেরত কূটনীতিক অ্যান্থনি বিøনকেনকে তার প্রসাশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বসাতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয় সেটা এখনও দেখার বাকি।