ভিক্ষা করে চলে নাদু মিয়ার জীবন, তবুও পাননি ভাতার কার্ড

হামিদুর রহমান, মাধবপুর :: অন্যের দুয়ারে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষায় পেট চলে বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী নাদু মিয়ার। ১৫/১৬ বছর আগে কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার কমড় ভেঙে যায়। তারপর থেকে মা মরা দুটি মেয়ের ভরণপোষণের জন্য আর বাঁচার তাগিদে নিজে লাঠি ভর দিয়ে নেমে পড়েন ভিক্ষাবৃত্তিতে। এক সময়ের বাস চালক নাদু মিয়া ১০ বছর ধরে ভিক্ষা করছেন। কিন্তু তার কোনো খবর রাখেন না জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় সমাজকর্মীরা। ভিটে-বাড়ি না থাকায় নাদু মিয়া এখন বিয়ের উপযুক্ত দুটি মেয়ে নিয়ে থাকেন অন্যের বাড়িতে। মুক্তিযুদ্ধের পর নাদু মিয়ার বাবা চেরাগ আলী নোয়াখালী থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মালঞ্চপুর গ্রামে বসবাস শুরু করেন। জনপ্রতিনিধিদের পিছু হেঁটেও নিজের জন্য একটি ভাতার কার্ড জোগাড় করতে পারেননি ৭০ বছর বয়সী এই প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ। করোনার বিশেষ ত্রাণের ৮ কেজি চাল ছাড়া আর সরকারি কোনো সহায়তা পান না তিনি।


প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নাদু মিয়া বলেন, এক সময় বাসের ড্রাইভার ছিলাম। যা রোজি করতাম তা দিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলতো। হঠাৎ একদিন দুর্ঘটনায় আমার কমড় ভেঙে যায়। কিডনিতেও সমস্যা দেখা দেয়। তারপর থেকে আর কোনো কাজ করতে পারিনা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে যা পাই তাতে কোনো রকম দুইটি মেয়ে নিয়ে দিন চলছে। বয়স হয়েছে, অনেক দিন গ্রামে ভিক্ষা করতে যেতে পারিনা । যে দিন গ্রামে ভিক্ষা করতে যেতে পারিনা সকাল-বিকেল প্রতিবেশিদের দ্বারে ঘুরে ঘুরে দু’মুঠো খাবার জোগাড় করি।

বৃদ্ধ নাদু মিয়া বলেন, একখান ভাতার কার্ডের জন্যে মেম্বারের পিছে কত ঘুরেছি। মেম্বার বলেন আমার নাকি কার্ড হবে না। কারণ আমি যখন ট্রাক দুর্ঘটনায় পতিত হই, তখন ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে ফেলেছি। আইডি কার্ড ছাড়া ভাতার কার্ড হয় না। মানুষের দুয়ারে গেলে দুটো ভাত জোটে। অসুখ হলে ওষুধ জোটে না। শুনছি টাকা খরচ করলে আবার আইডি কার্ড পাবো। আমি টাকা পাব কোথায়? নাদু মিয়া বলেন, বিয়ের উপযুক্ত মেয়েদের নিয়ে আরেকজনের বাড়িতে থাকি। যে ঘরটায় থাকি সেটাও ভাঙাচোরা। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ঘরে ডুকে। একটা ঘর হলে মা মরা মেয়েগুলোকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনোরকম ইজ্জত বাঁচিয়ে জীবনটা কাটাতে পারতাম।


এব্যাপারে ধর্মঘর ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম কামাল বলেন, আপাতত নাদু মিয়াকে ভাতার কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তার ভোটার আইডির কার্ড নিয়ে সমস্যা। সামনে সুযোগ এলে তাকে ভাতার আওতায় আনা হবে।