বাইডেনের সামনে চ্যালেঞ্জ!

হেলাল উদ্দীন রানা :: ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে রাজি হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও তার পরাজয় স্বীকার করে নেননি। তিনি লড়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেনকে মঙ্গলবার থেকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গোপনীয় ও স্পর্শকাতর বিষয়ে ইন্টিলিজেন্স ব্রিফিং দেয়া শুরু হবে। বাইডেন এখন থেকে যে কোনো সরকারি দপ্তরের কাছে তার কাজের ক্ষেত্রে যাবতীয় সাহায্য সহযোগিতা চাইতে পারেন। তার টিম এখন প্রতিরক্ষা সহ অন্যান্য দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। বাইডেন ট্র্যানজিশনের জন্য সরকারি তহবিলের ব্যবহার করতে পারেন। এই তহবিলে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। এই অর্থ বাইডেন টিম তাদের ট্র্যানজিশন কাজে ব্যায় করবেন। এই তহবিলের টাকায় ট্র্যানজিশন টিমের সব খরচাই নির্বাহ করা হবে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেন তার মন্ত্রিসভার কিছু গুরত্বপূর্ণ পদে যাদের বসাতে পারেন তারা হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন। পররাষ্ট্র বিষয়ে ব্লিংকেনের দীর্ঘ অভিক্ষতা রয়েছে। বাইডেন তার প্রশাসনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের মন্ত্রী হিসেবে একজন ইমিগ্রেন্টকে বেছে নিয়েছেন। কিউবান-আমেরিকান সাবেক উপমন্ত্রী আলহান্দ্র মায়োরকেসকে। এই ডিএইচএস ডিপার্টমেন্টের হাতেই এখন ইমিগ্রেশন বিভাগ ন্যস্ত। বাইডেন তার গোয়েন্দা বিভাগ ও ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুই নারীকে নিয়োগ দিতে চলেছেন। ন্যশনাল ইন্টিলিজেন্স দফতরের পরিচালক পদে অ্যাভরিল হেইনেসকে। তিনি সিআইএ-এর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি মনোনয়ন করেছেন জেনেট ইয়ালেনকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এবং ওবামা প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে তার জলবায়ু বিভাগের প্রধান হিসেবে বিশেষ দায়িত্ব দিতে পারেন।
নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রী সভায় সকল অভিক্ষতা সম্পন্ন ও সকলে কাছে গ্রহণযোগ্য লোক নিয়ে আসতে চেষ্টা করছেন। তবে ক্ষমতা নিয়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা। কোভিড-১৯- যুক্তরাষ্ট্র বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে বাইডেনকে রীতিমত হিমশিম খেতে হবে। এছাড়া তার উত্তরসুরির রেখে যাওয়া ঝঞ্জালও তাকে ঝেঁটিয়ে সাফ করতে হবে।
সবকিছু ঠিকমতো এগুলে আগামি ২০ জানুয়ারি বাইডেনের যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের দিন ধার্য্য রয়েছে। বাইডেনের প্রেসিডেন্সির পথ একেবারে মসৃণ হবেনা বাধা বিপত্তি মাড়িয়ে তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তবে মামলা-মোকদ্দমায় বিপর্যস্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরমধ্যে শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটেন তাও দেখার বিষয়।