কিশোর গ্যাং : কুস্তি খেলার প্রস্তাব দিয়ে খুন

স্টাফ রিপোর্ট :: শনিবার সকাল থেকেই রোদ পোহাচ্ছিলেন কিশোর লিটন (১৪)। নগরীর পশ্চিম পীরমহল্লা এলাকায় তার বাসা। স্থানীয়ভাবে ‘হক সাহেবের কলোনী’র সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পরিবারের সাথে ভাড়াটে হিসেবে থাকেন পশ্চিম পীরমহল্লা এলাকার জহির খানের বাড়িতে (নম্বর-১৫২)। তার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ গ্রামে। রোদ পোহাতে পোহাতে ১১টা বেজে যায়।

এমন সময় হক সাহেবের কলোনী (বাসা নম্বর-১৩৯) থেকে বেরিয়ে এলেন রাহুল পারভেজ নামে ২০ বছর বয়সী এক বখাটে। রাহুল ওই বাসার বাসিন্দা কালাম আহমদের ছেলে। বাসার সামনে লিটন মিয়াকে দেখতে পেয়ে তার দিকে এগিয়ে আসেন তিনি। নিজের চেয়ে বয়সে প্রায় ৬ বছরের ছোট কিশোর লিটনকে কুস্তি খেলার প্রস্তাব দেন রাহুল। লিটন এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের বলিষ্ঠ হাত লিটনের ঘাড়ে বসিয়ে দেয় বখাটে রাহুল। ঘাড়ে ধরে ছোট্ট লিটনকে শূন্যে তুলে সজোরে মাটিতে আছাড় মারেন রাহুল। মাটিতে পড়ে ব্যাথায় চেঁচিয়ে উঠেন লিটন। তবুও থামেননি রাহুল। কিশোর লিটন মিয়ার পেটে, বুকে, মুখে এং মাথায় কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন রাহুল পারভেজ। লিটনকে মারতে মারতে এক সময় নিজেই ক্লান্ত হয়ে ওই স্থান ত্যাগ করেন রাহুল। এ সময় লিটনের আর্তচিৎকারে তাজিম ও আরাফাত নামে দুই কিশোর এগিয়ে এসে তাকে মাটি থেকে তুলে বাসায় পৌঁছে দেয়। রোববার বিকেলে লিটন তার মাকে জানায়, তার সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে। শরীরে প্রচন্ড জ্বরও। নির্যাতনকারী প্রতিবেশী রাহুলের মা লিটনের অসুস্থতার খবর জানতে পেরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে লিটনকে খাওয়ান। রোববার সারা রাত লিটনের মা লিটনের শুশ্রষায় নির্ঘুম কাটান। সোমবার ভোরে ব্যথা আরো বেড়ে যায় লিটনের। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সকাল ৭টায় এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ৩য় তলার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় লিটন মিয়াকে। দু’ঘন্টাও পেরোয়নি হাসপাতালে ভর্তির। শরীরে ও মাথায় তীব্র ব্যথা ও যন্ত্রণা নিয়ে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিশোর লিটন মিয়া।

এদিকে, লিটনের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক গা ঢাকা দেন বখাটে রাহুল পারভেজ। এ ঘটনায় নিহত লিটনের বাবা শিরণ মিয়া বাদি হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানায় মামলা (নম্বর-৫৫) দায়ের করেছেন।

রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মামলায় অভিযুক্ত রাহুল পারভেজ পলাতক রয়েছে । তবে, রাহুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন।