আরও ২৮ জনের মৃত্যু

একাত্তর ডেস্ক :: দেশে গত এক দিনে আরও ২ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। সোমবার বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোভিড-১৯ সংক্রমণের সর্বশেষ এই তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪১৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬০ জন। আর এ সময়ে মারা যাওয়া ২৮ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৪১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ১৮৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন একই সময়ে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৬১১ জন হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৭টি ল্যাবে ১৬ হাজার ৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ১৩১টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ০৬ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ আর নারী ৭ জন। তাদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ২১ জন ঢাকা বিভাগের, ৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ২ জন রাজশাহী বিভাগের এবং ১ জন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৬ হাজার ৪১৬ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৯৩০ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৪৮৬ জন নারী। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও ১ হাজার ৬৭৮ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭৭৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৩৯ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৪৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৫১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩১ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৯৮ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ২৩৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩৯১ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৮৮ জন খুলনা বিভাগের, ২১৫ জন বরিশাল বিভাগের, ২৬৩ জন সিলেট বিভাগের, ২৯১ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৩২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ, তা ২৬ অক্টোবর ৪ লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৪ নভেম্বর তা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২৪তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৩তম অবস্থানে।

বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সোয়া ৫ কোটি ৮৬ লাখ পেরিয়েছে; মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৩ লাখ ৮৮ হাজার।