সোনালী ধানের ঘ্রাণ

কামরুল হাসান, হবিগঞ্জ :: হবিগঞ্জে এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে আনন্দের ঝিলিক। ধানে ধানে ভরে গেছে ফসলি মাঠ। সেই সাথে সোনালি ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ ফসলি মাঠে। ধান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। ধানের গোলা, খলা পরিষ্কার করার কাজে তার ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আগাম জাতের কিছু কিছু ধান পাকলেও ১০/১৫ দিনের মধ্যে আমন ধান কাটা ও মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে। বন্যার কারণে কৃষকের বোর ফসলের ক্ষতি হলেও আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে হাটবাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে ধানের দামও ভালো। তাছাড়া আগাম ধান কাটার পর আবার একই জমিতে সরিষা চাষ করতে পারবেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান জানান, জেলায় এবার আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। আনুমানিক অর্জিত ধরা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার মেট্টিক টনের উপরে। এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক পরিমাণ জমিতে আমন ফসল অর্জিত হয়েছে। তিনি আরো জানান, পরিবেশ ভালো থাকায় এবার আমন ধানে বিভিন্ন রকমের রোগবালাই কম হওয়ায় কৃষকরা স্বপ্রণোদিত হয়ে বাড়তি জমিতে আমন ধানের চাষ করেছে, বিধায় এবার আমন ধানের ফলন হয়েছে।
তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করতে খরচ হয় ৭/৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। আগাম জাতের উৎপাদনের সময় লাগে ৯০ থেকে ১০০ দিন। এ থেকে ধান উৎপাদন হয় ১৪ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত। আর অন্য জাতের ধান উৎপাদনে সময় লাগে ১২০ দিন পর্যন্ত। ধান উৎপাদন হয় ২০ থেকে ২৫ মণ পর্যন্ত। তবে এবার ধানের দাম পাবে কৃষকরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২ টাকায়।