হেফাজত সরকারপন্থী নয়, সরকারবিরোধীও নয়

স্টাফ রিপোর্ট :: ‘যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের (সা.) শানে বেয়াদবি করে তাদের কবর রচনা করতেই হেফাজতের জন্ম। হেফাজত সরকারবিরোধী সংগঠন নয়, আবার সরকারদলীয় সংগঠনও নয়’- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী শনিবার বিকেলে সিলেটে বিক্ষোভ সমাবেশে এমন মন্তব্যই করলেন। ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবীর (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে রেজিস্ট্রারি মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, বিশ্বের ২শ’ কোটি মুসলমানের ভালোবাসার প্রতীক রাসূলকে (সা.) নিয়ে ফ্রান্সের সরকার যেভাবে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তাতে মুসলমানদের অন্তর কেঁদে উঠেছে।
হেফাজতে ইসলামকে সরকারের বন্ধু উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম আপনার শত্রু না। আমরা আপনার বন্ধু। কিন্তু আপনার কাঁধের উপর ঘাপটি মেরে বসে থাকা নাস্তিক-মুরতাদরাই আপনার শত্রু।
কাদিয়ানিদের অমুসলি ঘোষণার দাবি জানিয়ে হেফাজত প্রধান বলেন, আমি মনে করি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও কাদিয়ানীদের মুসলিম বলে মনে করেন না। শুধু ব্যক্তিগতভাবে কাদিয়ানীদের কাফের মনে করলে হবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবেও কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করতে হবে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণায় কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। কাদিয়ানীদের সাংবিধানিকভাবে কাফের ঘোষণা না করার কারণে তারা মক্কা-মদিনা যেতে পারে। এতে মক্কা-মদিনার পবিত্রতা নষ্ট হয়। তাই আমি ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছি কাদিয়ানীদের সাংবিধানিকভাবে কাফের ঘোষণা করতে হবে।
হেফাজত আমীর বলেন, হিন্দুরাও কাফের। তাহলে এখন আপনাদের প্রশ্ন আসতে পারে- হিন্দুদের কাফের ঘোষণার কথা বলছি না কেন। আমরা হিন্দুদের কাফের ঘোষণার দাবি করছি না, কারণ তারা মুসলমানদের বেশ ধারণ করে না। কিন্তু কাদিয়ানীরা মুসলমানদের বেশ ধারণ করে। তাই তারা ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই আমাদের দাবি হল- কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করা হোক। এরপর তারা এ দেশে সংখ্যালঘু হিসেবেই থাকুক। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। হিন্দুরাও থাকছে; আমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমীর প্রফেসর ড. আহমদ আবদুল কাদের, উপদেষ্টা শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী রশিদুর রহমান ফারুক বর্নভী, উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নূরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকীব প্রমুখ।
হেফাজতে ইসলাম সিলেটের অন্যতম নেতা হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, প্রিন্সিপাল মাওলানা সামিউর রহমান মুসা ও মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, শায়খুল হাদীস মুফতী মুজিবুর রহমান, শায়খুল হাদীস মাওলানা আউলিয়া হোসাইন, মাওলানা শায়খ আবদুল বাসির, মহানগর হেফাজত নেতা হাফিজ মাওলানা নূরুজ্জামান, মাওলানা খলিলুর রহমান, অধ্যাপক বজলুর রহমান, জেলা হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসাইন, মাওলানা আহমদ বেলাল, মাওলানা গাজী রহমতুল্লাহ, হাফিজ আবদুর রহমান সিদ্দিকী, মুফতী ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা নাসির উদ্দিন, কারী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আতাউর রহমান কোম্পানিগঞ্জী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আহমদ সগীর, মওলানা ইউসুফ খাদিমানী, মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মাওলানা সাইফুল্লাহ, মাওলানা কাজী আবদুল ওয়াদুদ, মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ,মাওলানা আবদুল মালিক কাসিমী,মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইলয়াস,মাওলানা মুজিবুর রহমান কাসিমী,হাফিজ মাওলানা ফখর্জুামান, মাওলানা এবাদুর রহমান, মাওলানা আবদুল গফফার, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা এমরান আলম, মাওলানা ইকবাল আহমদ,মাওলানা আবদুস সামাদ, মাওলানা সুহাইল আহমদ, মাওলানা মুশাহিদ খালপারী, মাওলানা আলী আমদ, মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা মুশফিকুর রহমান মামুন,মাওলানা মাসুক আহমদ সালামী,মাওলানা জিল্লুর রহমান, মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা জাহিদ উদ্দীন চৌধুরী, মাওলানা হাফিজ জামিল আহমদ আনসারী,মাওলানা এহতেশাম কাসিমী,মাওলানা মামুনুর রশীদ,মাওলানা তালিব উদ্দীন, মাওলানা আলী আহমদ,মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা নূর আহমদ কাসিমী, মাওলানা ফাহাদ আমান, মাওলানা আবদুল্লাহ নেজামী,মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা হাফিজ আলী আহমদ,মাওলানা আমীন উদ্দীন, মাওলানা আবদুল মুছাব্বির, মাওলানা মাওলানা কয়েছ আহমদ, মাওলানা পীর আবদুল জব্বার,মাওলানা আফতাব উদ্দীন নোমানী,মাওলানা নাজিম উদ্দিন, মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমীর, রোটারিয়ান মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা নাজমুল হোসাইন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা কবীর আহমদ খান, আব্বাস উদ্দীন জালালী,মাওলানা ইমদাদুল হক,মাওলানা আলী আবিদীন, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম,হাফিজ ফুজায়েল আহমদ, মাওলানা তারেক আহমদ, মাওলানা একরামুল হক জুনাইদ ও মাওলানা লুৎফুর রহমান প্রমুখ।