‘জঙ্গি’কে সহায়তা: বাংলাদেশি দম্পতির দোষ স্বীকার

একাত্তর ডেস্ক :: সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসে যোগ দেওয়া দুই ভাইকে আর্থিক সহায়তা করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে স্বীকার করে নিয়েছেন প্রবাসী এক বাংলাদেশি দম্পতি। শহিদুল গাফ্ফার বাবু (৪০) ও নাবিলা খান (৩৫) গত কয়েক বছর ধরে পেনসিলভেইনিয়ার আপারডারবিতে বসবাস করে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে তাদের বুধবার ফিলাডেলফিয়ার ফেডারেল কোর্টে হাজির করা হলে বিচারক যশুয়া ডি উলসনের সামনে তারা দোষ স্বীকার করে নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ অপরাধে তাদের পাঁচ বছরের জেল এবং আড়াই লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে। জেল খেটে মুক্তি পাওয়ার পর আরো তিন বছর তাদের বিশেষ নজরদারিতে থাকতে হবে। এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সিরিয়ায় আইএসে যোগ দেওয়া নাবিলার দুই ভাই জে খান এবং আই খানকে (পুরো নাম প্রকাশ না করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাদের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ প্রকাশ করেছে) গত কয়েক বছরে তারা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ পাঠিছেন। তাদের মধ্যে আই খান গতবছর সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হন।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা জানান, ম্যারিল্যান্ড স্টেটের বাল্টিমোর থেকে কয়েক বছর আগে ফিলাডেলফিয়ায় এসে বসবাস শুরু করেন বাবু ও নাবিলা। সেখানে ‘দেশি ভিলেজ’, ‘নিউ দেশি ভিলেজ’ নামে দুটো রোস্তারাঁ আছে তাদের। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্যাটারিংয়ের কাজও করতেন তারা।
আপারডারবি সিটির কাউন্সিলম্যান শেখ সিদ্দিক জানান, বগুড়ার ছেলে বাবু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেলেও তার স্ত্রী নাবিলা এখনো গ্রিনকার্ডধারী। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী হিসেবে তারা কমিউনিটিতে পরিচিত। তবে কট্টরপন্থি আচরণের কারণে তাদের নিয়ে আগে থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সন্দেহ ছিল। মামলার নথিতে বলা হয়, নাবিলার বড় ভাই জে খান বাংলাদেশ থেকে সিরিয়ায় যান ২০১৫ সালে। সিরিয়ায় যাওয়ার খরচ যোগাতে নাবিলা তার কিছু সোনার গয়না বিক্রি করে দিতে বলেছিলেন তার বোনকে, যিনি বাংলাদেশেই থাকেন।
ভাইকে বিদায় জানাতে ওই বছর ফেব্রুয়ারি নাবিলা বাংলাদেশেও গিয়েছিলেন। আর বাবু ফিলাডেলফিয়া থেকে তার শাশুড়িকে লিখেছিলেন, তার ছেলে ‘মহান দায়িত্ব’ পালনে সিরিয়া যাচ্ছে, সেজন্যে তার ‘গর্ব করা উচিত’। নাবিলার আরেক ভাই আই খান ২০১৩ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি বোন-দুলাভাইয়ের সঙ্গেই ছিলেন। এরপর আই খান যখন বাংলাদেশে ফিরে যান, নাবিলা তখনও দেশেই ছিলেন। বাবু সে সময় বেশ কিছু টাকা পাঠান দেশে, যা আই খানের সিরিয়া যাওয়ার জন্য ব্যয় করা হয়।
ইউএস অ্যাটর্নি উইলিয়াম এম ম্যাকসোয়াইন বলেন, নাবিলা খানের দুই ভাইকে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে উৎসাহ দিয়েছেন এই দম্পতি।