কালভার্টের অভাবে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

মো. আলা উদ্দিন, দোয়ারাবাজার :: দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের সোনাচড়া-বালিচড়া রাস্তায় একটি কালভার্ট নির্মাণ না হওয়ায় যাতায়াতে স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ সহস্রাধিক মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এলাকার জনগণ সোনাচড়া-বালিচড়া রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ দাবি করে আসলেও তা উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ও বর্ষা মৌসুমে পরাপার করতে হয় বিদ্যালয়গামী ছোট ছোট বাচ্চাসহ এখানকার বাসিন্দারদের।
সোমবার ঘটনাস্থলে গেলে ক’জন স্কুল শিক্ষার্থী জানায়, ‘এভাবেই কষ্ট করে আমাদের এক হাতে বই আর এক হাতে সাঁকোর বাঁশ ধরে পাড়ি দিতে হয়। এখানে প্রায়ই সময় সাঁকো থেকে পড়ছে অসংখ্য লোক। আমাদের মধ্যেও রয়েছে কয়েকজন। ’
ওই এলাকার ২ থেকে ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন জুড়ে কয়েকটি এলাকা অবস্থিত। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বাঁশের সাঁকোই একমাত্র যাতায়াতের জন্য রয়েছে। দীর্ঘ বছরের এই সাকোটি কবে কালভার্ট রূপে তৈরি হবে সেই স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয়রা।
বরাবরই উন্নয়নের ছোয়া থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী। এখানকার মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরিসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়জিত রয়েছেন। একটি কালভার্টের জন্য হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পহাচ্ছেন। যার ফলে সেখানকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারনে পিছিয়ে পড়েছে পড়েছে গ্রামগঞ্জের মানুষ। গত বছরের বন্যায় শতাধিক গ্রামীণ সড়ক ভেঙ্গে যায় এবার যেটুকো ছিল সেও ভেঙে স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী বিপাকে পড়েছেন। কালভার্ট না থাকায় সাঁকো দিয়ে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ক’জন জানান, ‘এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ হলে উপজেলার বোগলাবাজার, সোনাচড়া, বালিচড়া, মোল্লাপাড়া, ভোলাখালীসহ পূর্ব পশ্চিম দিকের শত শত সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা হতো। স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ অত্র এলাকার চাকরিজীবিসহ স্থানীয়দের যাতায়েত একমাত্র এ বাঁশের সাঁকো। সাঁকো দিয়ে পারপারের সময় প্রায়ই ছাত্রছাত্রীদের নানা দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাস্তা থাকলেও কালভার্ট না থাকার কারণে ওই রাস্তায় যান চলাচল করতে পারছে না। কতৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগীদের দাবি অচিরেই যেন কালভার্ট নির্মাণ করে দেওয়া হয়
ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, আমরা বালিচড়া থেকে সোনাচড়াসহ উপজেলা যেতে হলে আমাদের একমাত্র যোগাযোগের ভরসা হচ্ছে এই বাশেঁর সাকোঁ। গ্রামের ছেলে মেয়েরা পাশের গ্রামেরবিদ্যালয়ে যেতে হলে এই সাকোঁ দিয়ে চলাচল করতে হয়। এক গ্রামের কৃষক অন্য গ্রামে কৃষি কাজ করে থাকে। কৃষিজ পণ্য আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। খুব দ্রুত একটি কালভার্ট নির্মাণ করে এলাকার যাতায়াতের সুব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্যে কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।
বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, শিগগির কালভার্ট নির্মাণ করে দেওয়া হবে।