‘আকবরের ফোন-সিমকার্ড’ যাচাই করবে পিবিআই


স্টাফ রিপোর্ট :: সিলেটের কানাইঘাটের দনা সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও কাপড়চোপড় পুলিশের বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার কি না, তা যাচাই করবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিনিসগুলো আকবরের- এমন নিশ্চিত হলে মামলার আলামত হিসেবে তা সংরক্ষণ করা হবে। পুলিশের কাছ থেকে আকবরের জিনিসপত্র গ্রহণ করার পর এ কথা জানিয়েছেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার রাতে পিবিআইয়ের কাছে আকবরের জিনিসপত্র হস্তান্তর করে সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমতল থেকে বেশ উঁচু একটি পাহাড়ের চূড়ায় একটি বাক্সের মধ্যে দুটো মুঠোফোন, কাগজ দিয়ে মোড়ানো তিনটি সিমকার্ড, শার্ট-প্যান্ট ও গেঞ্জি একটি কালো ব্যাগে রাখা ছিল। সেখানে একটি ২০ টাকার নোট, আকবরের পলাতক থাকা অবস্থার দুটো পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও দুজন নারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবি পাওয়া যায়। আকবরের মালপত্র পাহাড়ের চূড়ায় ফেলা রাখার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দোহা ও জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আবদুন নাসের তা উদ্ধারে নেতৃত্ব দেন। একই স্থান থেকে ৯ নভেম্বর আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময়ও এই দুই ওসি উপস্থিত ছিলে
জানা গেছে, আকবর পালিয়ে ভারতের যে এলাকায় অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকে লোক মারফত জিনিসপত্রগুলো ডোনা সীমান্তের পাহাড়ে রেখে যাওয়া হয়। এরপর পুলিশ গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। আকবরকে পালাতে সহায়তাকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতেই এগুলো উদ্ধার করা হয়।
গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাস্টঘর থেকে আটক করে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় এসএমপির একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে সত্যতা পায়। এর পর দিন ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়। তখন গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন পরই আকবর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যান। পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দেয়ার ২৬ দিন পর সোমবার আকবরকে সিলেট জেলা পুলিশের একটি দল কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় খাসিয়াদের হাতে আটক হন আকবর। আকবরকে গ্রেপ্তারের পরদিন পরদিন ১০ নভেম্বর তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় এই মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হলেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এরপর আকবরকে কারাগারে পাঠান আদালত। এর আগে এই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য এএসআই আশেক এলাহি, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং হারুনুর রশীদকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড নেয় পিবিআই। তবে রিমান্ড শেষে তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমলক জবানবন্দি দেননি।