বিকল্প থাকলে এটি হতোনা

মঈন উদ্দিন :: মঙ্গলবার, সকাল পৌণে ১১টা। নগর উপকণ্ঠের কুমারগাও এলাকা হঠাৎ করেই প্রকম্পিত হয়ে উঠে। একটা দুটা করে পরপর কান বিদীর্ণকরা বিকট শব্দ হতে থাকে। আশপাশের মানুষের মনে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘর ছেড়ে ছুটোছুটি শুরু করেন বাসিন্দারা। সেখানকার আশফাক হোসেন মিলু যেমনটি বলছিলেন, ‘এমন শব্দ আমি জীবনেও শুনিনি। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে পালাতে থাকি। একটু পরে ধাতস্থ হলে দেখি কুমারগাও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি বের হচ্ছে। তখনি বুঝতে পারি সেখানে আগুন লেগেছে’। মঙ্গলবার মিলুর মতো অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে ছুটেছেন প্রাণ বাঁচাতে। ওই ঘটনায় থমকে যায় পুরো সিলেট, সাথে সুনামগঞ্জও। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ। আর সংকটের শুরুও সেখান থেকেই। অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায়। ইন্টারনেটনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। বিঘিœত হয় স্বাভাবিক কাজকর্ম। সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়, সন্ধ্যা নামে। তখন শুরু হয় আরেক হাহাকার। অন্ধকারের সাথে যুদ্ধ। মুহুর্তেই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় মোমবাতি। বাসাবাড়িতে দেখা দেয় পানির সংকট। এক্ষেত্রেও বাজারের বোতলজাত পানি বিক্রি হয়ে যায় নিমিষেই। কখন বিদ্যুৎ আসবে- এমন একটা প্রশ্ন থেকেই মানুষের এই হুড়োহুড়ি।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এর এই উপকেন্দ্রের কর্মকর্তারাও সুখবর দিতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় মানুষের কষ্ট সকল মাত্রা অতিক্রম করে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্তও সংযোগ দেওয়া যায়নি। প্রায় ৩১ ঘন্টা পর বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় কিছু এলাকায় সংযোগ দেওয়া হলেও অনেক এলাকায় রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগিরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার ফসল হচ্ছে চার লাখের উপরে গ্রাহকের এই ভোগান্তি। এখন তদন্ত কমিটি হবে, এটা-ওটা হবে কিন্তু মানুষের কাজে লাগবে-এমন পদক্ষেপ নেওয়াটা হবেনা। তারা বলছেন, সিলেটে বিকল্প উপকেন্দ্র থাকলে হয়তো দুদিন মানুষকে এতো কষ্ট করতে হতো না।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী একাত্তরের কথাকে বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে আমরা দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যুৎহীন থাকলাম। মনে হচ্ছে আমরা অভিবাবকহীন হয়ে পড়েছি। অভিবাবক থাকলে এই পরিস্থিতি হতো না। জবাবদিহিতা থাকতো। যাদের গাফিলতিতে এমনটি হয়েছে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হতো। কিন্তু এসব কিছু হবে না।
ফারুক মাহমুদ মনে করেন বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়ে সিলেটের মানুষকেই ভাবতে হবে। তার বক্তব্য, অবিলম্বে বিকল্প বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। বিকল্প থাকলে আজ সিলেটে এতো হাহাকার হতোনা।