কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনের কাজ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে

আজিজুল ইসলাম, কুলাউড়া প্রতিনিধি :: বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে ৮মাস বন্ধ ছিলো কুলাউড়া –শাহবাজপুর রেললাইনের পূণর্বাসন কাজ। নভেম্বর মাস থেকে কাজের গতি ও লোকবল বেড়েছে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বর মাসে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মাত্র ৩০ ভাগ শেষ হয়েছে।
কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন পূণর্বাসন প্রকল্পটির কাজ ২০১৮ সালের মে মাসের শুরু হয়েছিল। যা শেষ হবার কথা ছিল ২০২০ সালের মানে গত মে মাসে। অবশ্য করোনাসহ নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। এরপর গত অক্টোবরে নতুন করে ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা।
রেলওয়ে সুত্র ও কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত সময়েও প্রকল্পের কাজ শেষ হবার সম্ভবনা খুব কম। তবে কাজ এগিয়ে নিতে সীমান্তের দু’পাশেই বেশ তোড়জোর চলছে। গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য যোগাযোগের কেন্দ্রস্থল হবে মহিষাশন জংশন। করোনার বিরতির পরে ভারতের আসাম অংশে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ২০২১ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কাজ শেষ করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
৫২ দশমিক ৫৪ কিলোমিটারের রেলপথটি ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল ও আসাম রেলওয়ের অংশ হিসেবে কুলাউড়া-শাহবাজপুরের মধ্যে ট্রেন চালু হয়েছিল। যা সিলেটের বড়লেখা উপজেলার লাতু সীমান্ত দিয়ে কুলাউড়া রেল জংশন পর্যন্ত যাতায়াত করতো। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পরে কুলাউড়া-শাহবাজপুর চলাচলকারী একমাত্র ট্রেনটি স্থানীয় জনসাধারণের কাছে ‘লাতুর ট্রেন’ নামে পরিচিত ছিল। ২০০২ সালের ৭ জুলাই এই রেলপথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালের ২৬ মে ৬৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদন করে। এর মধ্যে ১২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা বাংলাদেশ এবং ৫৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা দেবে ভারত। একই বছরের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরকালে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এই রেলপথ নির্মাণে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে সঙ্গে চুক্তি হয় ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কালিন্দী রেল কোম্পানির। ভারতের লাইন অফ ক্রেডিটের অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে মোট ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার মেইন লাইন এবং ৭ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার লুপ লাইন সংস্কার হবে।
২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভারত-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদ্বয় প্রকল্পের কাজ ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২৪ মাসের মধ্যে এসব কাজ শেষের কথা ছিল। চুক্তির পর প্রকল্পটির কাজ ২০১৮ সালের মে মাসের শুরু হয়েছিল। যা শেষ হবার কথা ছিল ২০২০ সালে অর্থাৎ গত মে মাসে। অবশ্য করোনাসহ নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। এরপর আরও ৬ মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়। চলতি সন অর্থাৎ ২০২০ সনের ডিসেম্বর মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ডিসেম্বরে ওই রুটে ট্রেনের হুইসেল বাজবে না। করোনায় দীর্ঘ ৮ মাস কাজ বন্ধ থাকায় অধিকাংশ ব্রিজের কাজ বাকি। সবক’টি ইয়ার্ড নির্মাণ কাজও অসম্পূর্ণ।
রেলওয়ের উর্ধ্বতন প্রকৌশলী জুয়েল হোসেন জানান, কুলাউড়া- শাহবাজপুর রেলওয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর মাসে শেষ হচ্ছে। বৈশি^ক মহামারি করোনার কারণে কাজ বন্ধ ছিলো। বর্তমানে কাজ চলছে দ্রæত গতিতে। প্রকল্পের ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া এক দেড় মাসে প্রকল্পের কাজ সম্পাদন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।