বুধবার সকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন সিলেট!

এনামুল কবীর :: অন্ধকারে সিলেট বিভাগ। ফের কবে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে তা কেউ জানেন না। এক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আঁধারে হাবুডুবু গ্রাম থেকে শহর এবং আধ্যাত্মিক মহানগরী।

তবে সিলেটের বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আগামী কাল বুধবার সকালের পর সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কিছুটা সম্ভাবনা আছে। তারা দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে সিলেটের কুমারগাঁওয়ের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিড লাইনে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। সাথে সাথে রাজপথ কাঁপিয়ে ছুটতে থাকে ফায়ার সার্ভিসের বিশাল বিশাল গাড়ি। তারা সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করেন।

প্রায় দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। এতে হতাহতের তেমন কোন ঘটনা না ঘটলেও ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। উৎপাদন ও সরবরাহের মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। এরপর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। তা কবে চালু হবে সেটাও বলতে পারছেন না কেউ। বিশেষ করে পিডিবির বড় বড় ইঞ্জিনিয়াররাও।

সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলকায় মাইংকিং করে বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছেন পিডিবি কর্তৃপক্ষ। তবে এ ব্যাপারে সার্বিক বিষয় স্বাভাবিক করতে তরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানালেন জানালেন দৈনিক একাত্তরের কথাকে।।

এদিকে একটি মাত্র লাইনে পুরো বিভাগজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে এই দুর্ঘটনায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমেছে বলে নাগরিক অসন্তোষ চরমে। তাদের বক্তব্য, একটা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি মাত্র বিদ্যুৎ লাইন মোটেও যথেষ্ট নয়। আরেকটা বিকল্প লাইন থাকা উচিৎ ছিল। সরকার এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সমালোচনায় মুখর সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

বিদ্যুৎ সরবরাহ কোথায় কোথায় বন্ধ, এমন প্রশ্নের জবাবে সিলেটের বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন বলেন, পুরো বিভাগেই বিদ্যুৎ নেই ভাই। আমরা দ্রুত কাজ করছি। চেষ্টা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।

তবে বিতরণ বিভাগের অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সিলেট মহানগর, জেলা, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের একটা বড় অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ।

কবে তা স্বাভাবিক হবে, জানতে চাইলে সূত্রটি নিশ্চিত কিছু বলতে পারেনি। অনেক জুরাজুরির পর আকার-ইঙ্গিতে জানিয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক হতে বুধবার সকাল পেরিয়ে যেতে পারে।

সাথে স্মরণ করিয়ে দিলেন, আমরা কথা ঠিক নাও থাকতে পারে। অবস্থা খুব জটিল। আর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণও নির্ধারণের কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করে সূত্রটি।