যুক্তরাষ্ট্রের ডায়েরি চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের

হেলাল উদ্দীন রানা :: এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি কখনও হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। পৃথিবী নামক গ্রহের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশটি যেনো এক কঠিন সময় পার করছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোযোগ নেই কাজে। ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছেন তিনি । নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে ক্রমশ চাপ বাড়ছে ঘরে-বাইরে।
অপরদিকে মহামারী কোভিড-১৯-এ ক্ষত-বিক্ষত গোটা যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখের কাছাকাছি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এবং আক্রান্ত বেড়ে চলেছে সমানতালে। হাসপাতালগুলোতে জায়গা নেই। অথচ গত ৫ মাস থেকে করোনার জন্য গঠিত জাতীয়ভাবে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ টাস্কফোর্সের সভায় অনুপস্থিত রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের আগে কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের সফলতা নিয়ে ঘোষণা না দেওয়ায় ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজারের উপরও চটেছেন প্রেসিডেন্ট। বলছেন সব কিছুই ষড়যন্ত্র। তাঁকে নির্বাচনে হারাতে ডেমোক্র্যাটের সাথে মিলে কোম্পানিটি নির্বাচনের পর ভ্যাকসিন বাজারে এনেছে। তবে ফাইজার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন দাবি রাজনৈতিক বক্তব্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিধ্বস্ত ট্রাম্প একের পর এক টুইট করে চলেছেন। এসব টুইটে জো বাইডেনের নাম উল্লেখ না করে একবার বলছেন তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন কেননা নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। আবার কয়েক ঘণ্টা পর টুইটেই বলেছেন তিনি নিজে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। পরাজয় মেনে নেবেন না তিনি।
নির্বচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টি থেকে কিছু রাজ্যের গভর্নর ও সিনেটের কোনো কোনো সদস্য দাবি তুললেও অনেক প্রভাবশালী সিনেটর এখনও রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন। বিশেষ করে সিনেটের বর্তমান মেজরটি লিডার রিপাবলিকান মিচ ম্যাক কর্নেল মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সিনেটের ১শ আসনের মধ্যে নির্বাচনে ৫০টি আসন পেয়েছে ম্যাককর্নেলের রিপাবলিকান পার্টি। ৪৮টি আসনে জয়লাভ করেছে বাইডেনের ডেমোক্র্যাট পার্টি। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের দুইটি সিনেট আসনে রানঅফ ঘটেছে। জর্জিয়ার আইন অনুযায়ী মোট ভোটের শতকরা ৫০ ভাগ ভোট না পেলে ইলেকশান রানঅফ ঘোষণা করে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সিনেটের আসনে। সে অনুযায়ী দুপক্ষের কেউই ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ৫০ ভাগ ভোট না পাওয়ার কারণে আগামী ৫ জানুয়ারি জর্জিয়ায় সিনেটের দুইটি আসনে পুননির্বাচন হবে।
মিচ ম্যককর্নেল জর্জিয়া সিনেটের নির্বাচনে জয়লাভের আশায় নিরবতা অবলম্বনের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি চাইছেন ট্রাম্প ইজমের মন্ত্র কাজে লাগিয়ে জর্জিয়ার সিনেটের নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে আসতে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট শিবির জর্জিয়া সিনেটে জয় পেতে মরিয়া। তারা সাম্ভাব্য সকল হিসাব নিকাশ করে সতর্কতার সাথে অগ্রসর হচ্ছেন। তাদের অবস্থা ভাল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এই দুই সিনেট সিট ডেমোক্র্যাটরা জিততে পারলে সিনেটে আসনের অনুপাত দাঁড়াবে ৫০ বনাম ৫০। ভাইস প্রেসিডেন্ট নব নির্বাচিত কমলা হ্যারিস-এর টাই ভোটের ক্ষমতাবলে ডেমোক্র্যাট পার্র্টির নিয়ন্ত্রণে চলে আসব ইউএস সিনেট। রিপাবলিকান পার্টির জন্য যা দুঃস্বপ্নের কারণ। সরকারে তাদের কোন নিয়ন্ত্রণই রইবে না আর।
এদিকে, রোববার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিবিএস নিউজের বিখ্যাত ৬০ মিনিট অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বলেন,এবারের ভোটের পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে বিভক্ত। এটা অবশ্যই উদ্বেগের। তিনি বাইডেনের টিমকে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বাধা দান ও ফলাফল মানতে গড়িমসি করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও অব্যাহতভাবে তার ভাষায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উত্থাপন করলেও ফেডারেল ও রাজ্যের নির্বাচনী কর্মকর্তারা তা বারবারই সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভূয়া বলে তার দাবিকে নাকচ করে দিচ্ছেন। অপরদিকে, ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ জো বাইডেন ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প