পাঞ্জারাই থেকে দুধপাতিল

বিশেষ প্রতিনিধি :: নবীগঞ্জ থেকে শিলচর কতদূর? দেশভাগ পরিবারটিকে ভাগ করেছিল। এই গল্প একটি সিলেটি জমিদার বাড়ির। একদা তাদের গোলাভরা ধান ছিল। শিলচরে গিয়ে তারা বিত্তবৈভব করতে পারেননি। কিন্তু মন্দির গড়েছেন। সেখানে প্রতিদিন পূজা হয়। আর সেটা হলো সেই মূর্তি, যা কিনা নবীগঞ্জের। তার মানে দাঁড়ালো, নবীগঞ্জের মূর্তি এখন পূজিত হয়ে চলছে করিমগঞ্জে। শ্যামা কালীর ওই মূর্তি কষ্টিপাথর দিয়ে তৈরি করা। মূর্তির গায়ের উপর রুপোর বায়না। অবিভক্ত ভারতের নবীগঞ্জ থানার অধীনের গ্রামটি ছিল পাঞ্জারাই। পাঞ্জারাই থেকে দুধপাতিল গ্রাম। উদয়গোবিন্দ রায়শর্মা চৌধুরীর বাড়িতে শ্যামা কালীর পাথরের মূর্তি স্থাপন করেছিলেন শ্যামানন্দ বাবা।
অন্তত ১শ বছর আগের এই অভিবাসনের ঘটনা। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় কথিতমতে আক্রমণকারীরা সেই মূর্তি পানিতে ফেলে দিয়েছিল । অনেক খোঁজাখুঁজির পরে তারা সেটি খুঁজে পান। কিন্তু হাতটা ছিল ভাঙ্গা । কালো কুচকুচে পাথরের উপরে রুপোর অলংকার পরানো । ওই ঘটনার পরে তারা ঠিক করেন যে, সিলেটে থাকবেন না। পঞ্চাশের দশকে তারা আসামে চলে যান। শুধু মা কালীর মূর্তি নয় সঙ্গে তারা নিয়ে যান মা মনসার নৌকা । পুজোর ঘট। পঞ্চমুখী শিব লিঙ্গ । মধুসূদন শিলা । এর কোনো কোনো মূর্তি প্রায় দুশ থেকে আড়াইশো বছরের পুরনো বলেও তাদের পরিবারের সদস্যদের মুখে মুখে ফিরছে।
উল্লেখ্য যে, ভারতীয় মিডিয়া সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বানিয়াচং গ্রামেও শ্যামানন্দ বাবার হাতে স্থাপিত একটি কালী মন্দির রয়েছে । সেই একই ধাঁচের বানানো ছোট মূর্তি শিলচরের পাশে দুধপাতিল গ্রামে পূজিত হচ্ছে । এই পূজা হয় শাক্ত মতে। শুধুমাত্র কালীপুজোয় অমাবস্যায় বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে।
নবীগঞ্জের সেই জমিদারবাড়ির উত্তর পুরুষ হলেন পূর্ণেন্দু রায় চৌধুরী। তিনি গতকাল মিডিয়াকে বলেছেন, ‘‘ আমার বাবার ঠাকুর দাদার সময়ে শ্রী শ্রী শ্যামানন্দ বাবা আমাদের বাড়িতে আসেন। সেই সময় আমার ঠাকুর দাদা যুবক। তখন তারা নবিগঞ্জ ছিলেন। এরপর করিমগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় তারা বসতি স্থাপনের চেষ্টা করেছেন । সব শেষে তাদের আবাসস্থলে ঠাঁই হয় শিলচর থেকে দূরে দুধপাতিল গ্রামে।
প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্ব তাকিয়ে আছে ওয়াশিংটনের দিকে আগামী দিনে কী হয় না হয় তা দেখার অপেক্ষায়।