বিয়ানীবাজারে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে নির্যাতন

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :: সিলেটের বিয়ানীবাজারে ৩য় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর প্রতি নির্মম আচরণের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের দাসউরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী জমায়েত হলে ঘটনাটি সর্বত্র চাউর হয়।

নির্যাতনের শিকার আহবাবুর রহমান স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে লোখাপড়া করে। তার পিতার নাম শহিদুর রহমান। সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানান, ৯ নভেম্বর বিকেলে আসরের নামাজ পড়তে বের হয় আহবাব। তখন তার গতিরোধ করে মুখ চেপে ধরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায় এলাকার বখাটে কিশোর রেদওয়ান (১৭)। সে পশ্চিম দাসউরা এলাকার ফৈয়াজুর রহমানের ছেলে। রেদওয়ান মাদরাসায় লেখাপড়ায় করলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। অসংখ্য বখাটেপনা আচরণের কারণে এলাকার মানুষ তার উপর চরম বিরক্ত।

নির্যাতনের শিকার আহবাবের চাচা ইউপি সদস্য আনসার উদ্দিন জানান, ওই পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে সুতা দিয়ে তার ভাতিজার হাত-পা বেঁধে মুখের ভেতরে খড় গুঁজে দেয় রেদওয়ান। শুধু তাই নয়, আহবাবের বুকের উপর উঠে চাপ দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টাসহ ব্যাপক মারধর করে। পরে রেদওয়ান তার মুখে প্রস্রাব করে দেয়।

এ সময় এশার নামাজের পর বেঁচে থাকলে আহবাবকে ছেড়ে দেওয়া হবে জানিয়ে চলে যায় রেদওয়ান। সন্ধ্যার সময় সম্বিৎ ফিরে পেলে আহবাব বাঁধন খুলে কোনোমতে বাড়িতে ফিরে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর তাকে নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান তার পরিবারের সদস্যরা।

এ ধরণের ঘটনার কারণ জানতে চাইলে আনসার উদ্দিন, খায়রুল ইসলামসহ এলাকার আরও লোকজন জানান, আহবাব বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তার কাছ থেকে প্রায়ই টাকা-পয়সা নিত রেদওয়ান। ঘটনার আগের দিনও সে আহবাবের কাছে ক্রিকেট ব্যাট কেনার কথা বলে ১ হাজার ২০০ টাকা চায়। ওই টাকা না পাওয়ায় তাকে নির্যাতন করেছে রেদওয়ান।
এ ঘটনায় শুক্রবার দাসউরা এলাকাবাসী প্রতিবাদ সভা করেন। সেখানে ওই ঘটনায় জড়িত রেদওয়ানের বিচার দাবি করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর বিয়ানীবাজার থানায় রেদওয়ানকে আসামি করে এজাহার দায়ে করেছেন আহবাবের চাচা ইউপি সদস্য আনসার উদ্দিন। এজাহার পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা নুর জানান, মারধর-নির্যাতনের ঘটনা সত্য। আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।