ধর্ষণকাহিনীতে মুন্নী

স্টাফ রিপোর্ট :: শনিবার সকাল ৭টায় মাহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে নগরীর শিবগঞ্জ সোনারপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে আটক হন মরিয়ম আক্তার মুন্নী (২৯) নামে এক তরুণী।

এসময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৫ পিস ইয়াবা। মুন্নী শিবগঞ্জ হাতিমবাগ ১ নং রোডের ৪০ নম্বর বাসার বাসিন্দা জাকির হোসেনের মেয়ে। কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু ইয়াবা ব্যবসাই নয়, কিশোরীকে অপহরণ এবং ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামিও এই মুন্নী।

এমসি কলেজ ছাত্রবাসে গণধর্ষণের ঘটনার মাত্র ৩ দিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর নগরীর শিবগঞ্জ এলাকা থেকে অপহৃত হন ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী এক কিশোরী (১২)। বিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হতদরিদ্র ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ করেন রাব্বী তালুকদার নামের এক যুবক। রাব্বীর আরেক পরিচয়, তিনি আটক হওয়া ইয়াবা ব্যবসায়ী মরিয়ম আক্তার মুন্নীর ছোটভাই। ২৯ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরীকে অপহরণ করে ঢাকার মানিকগঞ্জে নিয়ে যান রাব্বী তালুকদার। ওইদিনই এসএমপি’র শাহপরাণ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করতে যান অপহৃত কিশোরীর মা। কিন্তু শাহপরাণ থানা পুলিশ সেই অভিযোগ গহণ করে নি। অভিযোগ রয়েছে, শাহপরাণ থানার এসআই দেবাংশুর প্রভাবেই সে সময় মামলা হয়নি। নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে এক মানবাধিকার কর্মীর সাথে যোগাযোগ করেন কিশোরীর মা। ওই মানবাধিকার কর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির মাধ্যমে রাব্বীর বোন মুন্নীর সাথে যোগাযোগ করা হয় দুদিন পর ১ অক্টোবর বিকেলে মুন্নী জানান, রাব্বী এবং ওই কিশোরী মুন্নীর বাসায় আাছে।

এ সময় স্থানীয় মুরব্বীদের সাথে নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার প্রস্তাব দেন মরিয়ম আক্তার মুন্নী। থানা পুলিশে গেলে ওই কিশোরীকে ফেরত দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেন তিনি। মুন্নীর সেই প্রস্তাব নাকচ করে শাহপরাণ থানায় যান ওই কিশোরীর মা। তার পীড়াপীড়িতে এবং মানবাধিকার কর্মীর সহযোগিতায় ১ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টার দিকে হাতিমবাগস্থ মুন্নীর বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে শাহপরাণ থানা পুলিশ। আটক করা হয় রাব্বী তালুকদারকে। আটকের সময় রাব্বী তালুকদারকে আলমারীর ভেতর থেকে বের করে পুলিশ। এ সময় ধর্ষণে সহায়তাকারী মুন্নীকে আটক করেনি পুলিশ।

শাহপরাণ থানায় যাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছে জানায়, সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ কথা শোনার পরেও ওই কিশোরীকে তাৎক্ষণিক ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি’তে প্রেরণ না করে তার মায়ের জিম্মায় দিয়ে দেন এবং তার মাকে মামলা না করার পরামর্শ দেন ওসি। পরদিন ২ অক্টোবর সকালে তলপেটে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভূত হয় ওই কিশোরীর। তাৎক্ষণিক পরিবারের সদস্যরা তাকে ওসমানী হাসপাতালেও ওসিসিতে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে বিপাকে পড়ে যায় শাহপরাণ থানা পুলিশ। তাৎক্ষণিক ওই কিশোরীর মা’কে শাহপরাণ থানায় ডেকে পাঠান ওসি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। থানার কম্পিউটারে টইপকৃত একটিা এজাহারে স্বাক্ষর করতে বলা হয় তাকে। পুলিশের কথামতো ভুল তথ্যে ভরা সেই এজাহারে স্বাক্ষর করেন লেখাপড়া না জানা ওই নারী। এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজ্জু হয় পরদিন ৩ অক্টোবর। ওই মামলায় আসামি করা হয় নগরীর শিবগঞ্জ হাতিমবাগ এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে রাব্বী তালুকদার এবং মেয়ে মরিয়ম আক্তার মুন্নীকে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৪ অক্টোবর থানা হেফাজতে থাকা রাব্বী তালুকদারকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু ওই কিশোরীকে নিজের বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণে সহায়তাকারী এবং মামলার অপর আসামি মরিয়ম আক্তার মুন্নীকে হাতের নাগালে পেয়েও গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার এসআই অন্নপূর্ণা তালুকদারকে একাধিকবার কিশোরীর পরিবারের তরফ থেকে মুন্নীকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুরোধ করা হলেও তা কানেই তুলেননি অন্নপূর্ণা। একটি বিশ^স্ত সূত্র জানিয়েছে, শাহপরাণ থানার এসআই দেবাংশুর সাথে গভীর সখ্যই ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করছিলো চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মরিয়ম আক্তার মুন্নীর।

মুন্নীকে গ্রেপ্তারে শাহপরাণ থানার অনিহার কারণে নির্যাতিতার মা পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফের শরণাপন্ন হন। অবশেষে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল শনিবার সকাল ৭টায় মুন্নীকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।

এক/এক