জাতির পিতাকে সংসদের বিনম্র শ্রদ্ধা

একাত্তর ডেস্ক :: মুজিববর্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্থাপন করা সাধারণ প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবটি গ্রহণের আগে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গ্রহণের সময় গণপরিষদে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সংসদ কক্ষে শোনানো হয়। গত ৯ অক্টোবর সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব এনেছিলেন। নোটিস আকারে তার প্রস্তাব উত্থাপনের পর এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা শেষে রোববার রাতে প্রস্তাবটি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
প্রস্তাবটি পাসের পর স্পিকার বলেন, এর মধ্যে দিয়ে বিশেষ অধিবেশন সমাপ্তি হল। এরপর সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্পিকার সংসদের বৈঠক মুলতবি করেন। জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অধিবেশন ৮ নভেম্বর শুরু হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে এটাই প্রথম বিশেষ অধিবেশন। আর সংসদ কক্ষে জাতির জনকের ছবিসহ এটাই সংসদের প্রথম অধিবেশন। গত ৯ নভেম্বর এই প্রস্তাব সংসদে তোলার আগে সংসদে স্মারক বক্তৃতা দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রোববার এই প্রস্তাব গ্রহণের দিনও সংসদে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান। সংসদের ‘প্রেসিডেন্ট‘স বক্সে’ বসে সংসদ অধিবেশন দেখেন তিনি।
সাধারণ আলোচনার জন্য সংসদ নেতার প্রস্তাব তোলার নজির নিকট অতীতে নেই। সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ বা সংসদের জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্য সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপন করে থাকেন। প্রস্তাবটি গ্রহণের আগে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ সরকারি ও বিরোধী দলীয় ৭৯ সংসদ সদস্য এর ওপর ১৯ ঘণ্টা ৩ মিনিট আলোচনা করেন।

সংসদে গৃহীত প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার উত্থাপন করা ১৪৭ বিধির সাধারণ প্রস্তাবে যে বিষয়টি তুলে ধরা হয় তা হল- সংসদের অভিমত এই যে ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি, বাঙালির অবিসংবাদিত মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। জেল-জুলুম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন। কিন্তু অন্যায়ের সাথে কখনো আপস করেননি। ১৯৫৭-৪৮ থেকে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৬৬ এর ছয় দফা ১৯৬৮ এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন- দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭১ এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার নিরস্ত্র জনগণ ঘরে ঘরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তুলেছিল। ২৬ মার্চ ১৯৭১ এর প্রথম প্রহরে জাতির পিতা শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ মহান শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান লাভ করে। বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। লাল-সবুজের পতাকা ও সংবিধান। বঙ্গবন্ধু বিশ্বসভায় বাঙালিকে আত্মপরিচয় নিয়ে গর্বিত জাতিরূপে মাথা উঁচু করে চলার ক্ষেত্র রচনা করেছেন। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়কালে বাংলাদেশের উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন তিনি।
২০২০ সালে জন্মশতবার্ষিকীতে মুজিব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক এবং কর্মজীবন ও দর্শনের উপর জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হোক।