যুবলীগ: কবীর-ইমন আউট

স্টাফ রিপোর্ট :: যুবলীগের প্রেসিডিয়াম হিসেবে সিলেটের দুটো নাম ছিলো আগের কমিটিতে। এবার দুটো নামই কাটা পড়েছে। এ দুজনের একজন হলেন রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবীর অপরজন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন। শনিবার যুবলীগ যে ২০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেছে তাতে তাদের দুজনের নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশ্য প্রেসিডিয়াম সদস্যের ২৭টি পদের মধ্যে এখনও দুটি পদ শূন্য রয়েছে।


নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে জাতীয় সম্মেলনের প্রায় এক বছর পর শনিবার ঘোষণা করা হয় আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতাদের পাশাপাশি সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটি পূর্ণাঙ্গকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতারা। একই সঙ্গে বিতর্কিত ও নানা অপকর্মে যুক্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের। শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের কাছে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা তুলে দেন। ক্যাসিনোকাণ্ডে বিতর্কিত হওয়ার পর ভাবমূর্তি ফেরাতে যুবলীগের কমিটিতে যে ব্যাপক রদবদল হচ্ছে তা আগে থেকেই অনুমেয় ছিলো। বিতর্কিতরা যে দলে জায়গা পাবেন না সেটা জোর গলায়ই বলা হচ্ছিলো। কমিটি ঘোষণার পর তার প্রমাণও মিলেছে। ঘোষিত কমিটির বেশিরভাই নতুন মুখ। আর যুবলীগ করার বয়সসীমা ৫৫ বছরে বেঁধে দেওয়ায় বয়সীদেরও জায়গা হয়নি কমিটিতে।


সিলেট থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের সাবেক পরিচালক ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের বিরুদ্ধেতদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৯০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে দুদক কার্যালয়ে ঢেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ইমনের বিরুদ্ধে দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সরকারি দলের পদবি ব্যবহার করে সুনামগঞ্জ শহরে বিলাসবহুল বাড়ি, রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট, ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ এফডিআরসহ নামে-বেনামে ৯০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া তিনি পাওয়ার গ্রিডের পরিচালক হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন ও সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অপরদিকে ড. আহমদ আল কবীর যুবলীগ করার বয়সসীমা ডিঙিয়ে গেছেন। বেঁধে দেওয়া বয়সের চেয়ে ১৩ বছর বেশি বয়স তার।