মায়ের প্রশ্ন: রায়হানের শার্ট পাল্টালো কে?

স্টাফ রিপোর্ট :: বন্দরবাজার ফাঁড়িতে যে রাতে রায়হানকে ধরে নিয়েছিল পুলিশ, সেদিন সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন একটা নেভি-ব্লু টি শার্ট পরে। কিন্তু লাশের গায়ে দেখা গেছে লাল শার্ট। এটা কারা করেছে- জানতে চেয়েছেন তার মা সালমা বেগম। তাছাড়া তিনি অন্যান্য আলামত যারা নষ্ট করেছে তাদেরও গ্রেপ্তার দাবি করেছেন। শনিবার দুপুর ১২টায় আখালিয়া-নেহারীপাড়ার নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমার ছেলে নিরপরাধ। কারা কেন তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করেছে সেটি আজও অপরিস্কার। মামলায় আশেক এলাহিসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা কেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন না এটাও খুব রহস্যজনক। কিন্তু তবুও আমি পিবিআইসহ অন্যান্যদের তদন্তের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, শার্ট বদল যারা করেছে বা সিসিটিভির হার্ড ডিস্ক যারা পাল্টেছে, তারা কারা? তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। ন্যায় বিচারের জন্যই তা জরুরী। এছাড়া আমার ছেলের মোবাইলও ফোন এখনও ফেরত দেয়া হয়নি। তিনি আলামত নষ্ট এবং আকবরকে পালাতে সাহায্যকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবােইকে গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি জানান।
রায়হানের মা আকবরকে গ্রেপ্তারে সিলেট জেলা পুলিশ এবং কানাইঘাট সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা এবং খাসিয়া সম্প্রদায়ের যুবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ন্যায় বিচার দাবিও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৃহত্তর আখালিয়া সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান। তিনি দ্রুত মামলার অভিযোগপত্র দাখিল এবং সুষ্ঠ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে রায়হান হত্যা মামলার সব আসামীকে গ্রেপ্তার, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল ও দ্রুততম সময়ে আকবরসহ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সবার বিচার শুরুর দাবি জানানো হয়।
গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাস্টঘর থেকে আটক করে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় এসএমপির একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে সত্যতা পায়। এর পর দিন ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়। তখন গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন পরই আকবর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যান। পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দেয়ার ২৬ দিন পর সোমবার আকবরকে সিলেট জেলা পুলিশের একটি দল কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় খাসিয়াদের হাতে আটক হন আকবর।